banglanewspaper

ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এ এক মহাখবর! মাত্র দুই হাজার টাকায় ঘুরে আসা যায় ভারতের অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পট শিলিগুড়ি। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি শিলিগুড়ি আপনি কিভাবে যাবেন, কতদিন থাকবেন, কি করবেন এসবের উপরই নির্ভর করে আপনার ভ্রমণ ব্যয়।

আমার এই ২০০০ টাকার ভ্রমণেই আপনি খরচ করতে পারেন ২০,০০০ টাকা। এটি যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

যারা কম খরচ এবং কম সময়ে শিলিগুড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাদের জন্যই আজকের লেখাটি।

 

যাত্রা শুরু :

ঢাকা থেকে রাত ১০টায় নাবিল পরিবহনে চড়ে পঞ্চগড় পৌঁছলাম সকাল ৭ টায়। ভাড়া লাগলো ৬৫০ টাকা। পঞ্চগড় থেকে ৫০ টাকা ভাড়ায় লোকাল বাসে বাংলাবান্ধা পৌছালাম। তখন সকাল ৯:৩০।

এরপর ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এর ঝামেলা পেরিয়ে ১১টায় গেলাম ফুলবাড়ি বাস স্ট্যান্ড। এরপর ফুলবাড়ি থেকে লোকাল বাসে ১০ রুপী দিয়ে শিলিগুড়ি, সেখান থেকে শেয়ারে ভাড়া করা জীপে চড়ে যখন মিরিক নামলাম, তখন ঘড়িতে বেলা ১২:৩০টা।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা,গভীর অরণ্য ভেদ করে ছুটে চলা, মেঘে ঢাকা চা বাগানের নান্দনিকতা আর অনন্য মিরিক লেক, আপনার যাত্রাপথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিবে এক নিমিষেই।

পরের চার ঘণ্টা, মানে ৪:৩০ পর্যন্ত কাটলো মিরিকের লেক, নান্দনিক সুইস কটেজ, সবচেয়ে উঁচু চুড়া, হ্যালিপ্যাড, মেঘ-কুয়াশা-নীল আকাশ, একটু দূরেই পাহাড়ে পাহাড়ে নেপালি গ্রাম, কারশিয়াং-দার্জিলিং এর পাহাড় দেখেই।

বলতেই হয়, ভাগ্য আমার সেদিন সুপ্রসন্নই ছিল। পরিষ্কার আকাশ আর মেঘ মুক্ত থাকায় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বরফে মোড়া রঙিন কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়েছিলাম সেদিন। ছোট সময়ের ভ্রমণে এটি ছিল দুর্দান্ত বোনাস।

এরপর বিকেল ৪:৩০টায় আবারও শেয়ার জীপে চড়ে ৭০ রুপীতে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি ফিরে দ্রুতই একটি রুম নিলাম। ভাড়া মাত্র ৪০০ টাকা হলেও মান যথেষ্টই ভালো। এমনকি ফ্রি ওয়াই-ফাইও ছিল।

রুমে ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে আবার বেরিয়ে পড়া। বসে বসে সময় নষ্ট করার সময় কই। রাতে ১২০ রুপীতে খেলাম  মাটন বিরিয়ানি। স্বাদে কিন্তু অসাধারণ!

সুইস কটেজ

সারাদিনের জার্নিতে শরীর একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিল। তাই ঘুমিয়ে পড়লাম শোয়ার সাথে সাথেই।

ঝুম বৃষ্টি আর ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় বিছানা ছেড়ে উঠতে মন চায় না। কিন্তু সময় যে ফুরিয়ে আসছে। অবশেষে বেলা ১২:৩০টায় রুম ছেড়ে বের হলাম। ব্যাগ হোটেলের রিসেপসনেই রেখে গেলাম।

বিকেল তিনটা পর্যন্ত শিলিগুড়ির পাহাড়, চা বাগান ঘুরে-ঘুরে ক্লান্ত। হোটেলে ফিরে একটু ফ্রেশ হয়ে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম নিজ শহরের উদ্দেশ্যে। হোটেলের সাথে লাগোয়া রাস্তা থেকেই ফুলবাড়ির অটোতে ওঠা! ভাড়া সেই ১০ রুপী আর সময় ১৫-২০ মিনিট!

আবারও ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ৪ টায় বাংলাবান্ধা। লোকাল বাস বা ভাগ্যক্রমে পেয়ে যাওয়া মাইক্রোতে করে ৬০ টাকায় পঞ্চগড়! আর ফেরার সময় ৬০০ টাকায় ঢাকায়!

তাহলে আর দেরি কেন? পথ তো জানাই আছে। ঢাকা-শিলিগুড়ি-মিরিক-শিলিগুড়ি-ঢাকা। খরচ মাত্র ২০০০ টাকা।

সূত্র : নিয়ন আলোয়।

ট্যাগ: