banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: গোটা রাজ্যে সব কৃষি জমির খাজনা মওকুফের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৫ এপ্রিল বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত দেড় মাস পরেও কার্যকর করতে পারেনি ভূমি দফতর। কারণ, কোন পথে খাজনা মকুব করা হবে সে ব্যাপারে এক মত হতে পারছে না অর্থ, আইন এবং ভূমি দফতর।

অসুবিধাটা ঠিক কোথায়?

২০০৫ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে শেষ বার ভূমি সংস্কার আইন সংশোধন করা হয়েছিল। তখনই গ্রামাঞ্চলে সেচ সেবিত এলাকায় চার একর এবং সেচহীন এলাকায় ছয় একর পর্যন্ত জমিতে খাজনা মকুব করা হয়। শহরাঞ্চলে থাকা কৃষি জমিতে অবশ্য কোনও খাজনা মকুব করা হয়নি। কিন্তু সব মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি জমির মালিককে এখন কোনও খাজনা দিতে হয় না। তবে খাজনা দিতে না হলেও সরকার তাঁদের কাছ থেকে চার ধরনের সেস আদায় করে। প্রতি এক টাকা খাজনার জন্য পথকর, পূর্তকর, প্রাথমিক শিক্ষা কর, এবং গ্রাম্য-চাকরি কর মিলিয়ে মোট ৮৬ পয়সা দিতে হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে সরকারের কাছে পেশ করা প্রস্তাবে ভূমি দফতর খাজনার পাশাপাশি সেসও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করে। কিন্তু কী ভাবে তা করা হবে, সেটা ঠিক করতে না পেরে আইন দফতরের মত চেয়ে পাঠায় তারা। আইন দফতরের একাংশের বক্তব্য, খাজনার অংশ হিসেবেই সেস নেওয়া হয়। খাজনাই যদি না থাকে, তা হলে সেসও তুলে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। সেস আদায় করা হয় ব্রিটিশ আমলের রাজ্য সেস আইনে। জমির উপর থেকে সেস তুলে দিতে হলে সেই আইন বাতিল করতে হবে। কিন্তু ওই একই আইনে মোটা টাকা সেস আদায় হয় কয়লা থেকে। সেই বাম আমল থেকেই কেন্দ্র বারবার বলা সত্ত্বেও কয়লায় সেস আদায় রাজ্য বন্ধ করেনি। এখন আইন বাতিল করে রাজকোষের ক্ষতি করার ব্যাপারে অর্থ দফতরের সায় মিলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনিতেই খাজনা তুলে দিলে রাজস্ব আদায় বেশ খানিকটা কমবে। ২০১৬-’১৭ সালে ভূমি রাজস্ব খাতে ৭৬০ কোটি টাকা রোজগার হয়েছে রাজ্যের। তার মধ্যে  ১৭০ কোটি টাকা এসেছে খাজনা ও সেস থেকে।

সেস তুলে দেওয়ার অন্য অসুবিধাও রয়েছে। কারণ, কোনও জমির দখলিসত্ত্বের প্রমাণ হল খাজনার রসিদ। সেই জন্য জমির মালিকরা সেস মিটিয়ে জমি যে তাঁদের দখলে রয়েছে তার প্রমাণ রাখেন। সেস উঠে গেলে জমির দখলিসত্ত্ব নিয়ে বিবাদ বাড়বে। সরকার যাঁদের পাট্টা দেয়, সেস-এর রসিদই তাঁদের একমাত্র নথি। সেস উঠে গেলে পাট্টা প্রাপকদের কী হবে? রাজ্যে এখন ‘এক মৌজা, এক ব্যক্তি, এক খতিয়ান’ পদ্ধতিতে রেকর্ড রাখা হয়। একই খতিয়ানে কার কতটা কৃষি আর কতটা অকৃষি জমি রয়েছে, সেস-এর নথি ছাড়া সেই হিসাব কী ভাবে করা সম্ভব? ফলে সব মিলিয়ে সেস তুলে দেওয়া নিয়ে তিন দফতরেই বেশ কিছু ধন্ধ তৈরি হয়েছে।

এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হলেই অর্ডিন্যান্স বা আইনে সংশোধনী আনা হবে বলে জানান ভূমি দফতরের এক শীর্ষ কর্তা।

ট্যাগ: