banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে গোঘাটের ভাবাদিঘি নিয়ে জট কাটাতে ফের কড়া নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তারকেশ্বরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুংকার, ‘‘তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প৷ ওখানে কিছু সিপিএম রয়েছে৷ কাজে বাধা দিচ্ছে৷ এটা বরদাস্ত হবে না৷’’ এদিন রেলপথ নির্মাণের জন্য গ্রামবাসীদের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন৷ মন্তব্য করেন, ‘‘টাকাই চাইলে টাকা দেবে, জাল চাইলে জাল দেব৷ মাছ চাইলে মাছ দেব৷ দিঘি চাইলে দিঘি দেব৷

যা চাইবে তাই দেব৷ কিন্তু, প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না৷’’ তবে, ভাবাদিঘির উপর নির্ভরশীল ১৭০টি মৎস্যজীবী পরিবারকে ঠিক কত টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে? বিকল্প কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? ভাবাদিঘি ভরাট করা হলে মৎস্যজীবীদের জন্য কী বিকল্প জীবীকার ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট করেনি মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে, গোঘাটের থানা ও জেলা প্রশাসনকে প্রকল্প শেষ করারও নির্দেশ দিয়ে রেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ‘দিঘি বাঁচাও’আন্দোলকারিরা৷ কেননা, প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য জেলা প্রশাসনের ঘারে যেভাবে চাপ বাড়ালেন মমতা, তাতে নতুন করে আন্দোলন দানা বাধতে শুরু করেছে৷ নতুন করে পুলিশি তাণ্ডবেরও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে৷ ‘দিঘি বাঁচাও কমিটি’র আশঙ্কা, মমতা এই নয়া নির্দেশের জেরে নতুন করে গ্রামে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে৷ এমনকি, আন্দোলন থামাতে ধরপাকড়ও শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

কেননা, গত মাসেই স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার স্ত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ‘দিঘি বাঁচাও কমিটি’র সম্পাদক সুকুমার রায়কে। এর পরেই কমিটি অভিযোগ তোলে, ওই রেলপথ নির্মাণে বাধা সরাতে কমিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগেই সুকুমারবাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার, স্থানীয় পুলিশকে মমতার কড়া নির্দেশ ও গ্রামবাসীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার ঘোষণায় ‘দিঘি বাঁচাও’ আন্দোলন নয়া মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই৷

ইতিমধ্যেই আন্দোলন ঠেকাতে মাসখানেক আগে রেলের অধিগৃহীত জায়গায় একটি মন্দির নির্মাণের চেষ্টা হলে গ্রামে পুলিশ ক্যাম্প বসে৷ সেই ক্যাম্প তুলে নেওয়ার দাবিতে সই সংগ্রহকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মধ্যে মারপিট বাধে৷ সুকুমারবাবুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

অভিযোগ, মাসখানেকের মধ্যে কমিটির স্বপন রায়, অঞ্জন রায়, প্রসাদ রায়ের মতো কয়েক জনের বিরুদ্ধে নানা জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা হয়। পুলিশ অবশ্য তাঁদের ধরতে পারেনি। ‘দিঘি বাঁচাও কমিটি’র পক্ষে ভাস্কর দাসের অভিযোগ, “দিঘির উত্তর পাড় দিয়ে রেলপথ হোক। দিঘির মাঝ বরাবর মাটি ভরাট করে রেলপথ নির্মাণে আমাদের আপত্তি। সেই আপত্তি তুলে নিতে শাসকদলের নেতারা আমাদের ভয় দেখাচ্ছেন। হুমকি দিচ্ছেন। এখন আন্দোলন দমাতে বিধায়ক এবং পুলিশ ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো শুরু করেছে।’’

প্রায় ৫১ বিঘা এলাকা নিয়ে ভাবাদিঘি। বর্তমানে দিঘির অংশীদার তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত ১৭০টি পরিবার। গ্রামবাসীদের দাবি, দিঘির উত্তর পাড় দিয়ে রেলপথ বসানোর কথা ছিল। কিন্তু ২০১০ সাল নাগাদ তাঁরা জানতে পারেন, দিঘির মাঝ বরাবর রেলপথ নির্মাণ হবে। কয়েকজন ক্ষতিপূরণের টাকা নিলেও অধিকাংশই নেননি। তখন থেকেই কমিটি গড়ে তাঁদের দাবি, দিঘিকে ভাগ না-করে উত্তর পাড় দিয়ে রেলপথ হোক। পূর্ব রেল অবশ্য আগেই জানিয়েছে, উত্তর পাড় দিয়ে রেলপথ নির্মাণে কারিগরি সমস্যা রয়েছে। তখন থেকে সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছে৷ দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা সমস্যা মেটাতে আজও প্রশাসনিক সভা থেকে ‘প্রকল্প হবেই’ বলে ফের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ‘আগুনে ঘি’ ঢালল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ৷

ট্যাগ: