banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: একসঙ্গে ২১টি আদিবাসী দম্পতির বিয়ে দিয়ে নজির গড়ল পূর্বাঞ্চল কল্যাণ আশ্রম। দীর্ঘদিন একসঙ্গে সংসার করছেন, অথচ আর্থিক কারণের জন্য বিয়ে করতে পারেননি, এমনই ৪২ জনের বিয়ে দিয়েছেন আশ্রমের সদস্যরা।

বছর পনেরো আগে মাইনো টুডুকে নিয়ে ঘর বেঁধেছিলেন কেমন মার্ডি।  আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিক আচার সম্পন্ন করতে পারেননি তাঁরা। তাই বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতিও ছিল না তাঁদের। পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার অধিকার হারিয়েছিলেন এই দম্পতি। এতদিনে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে দিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফেরাল পূর্বাঞ্চল কল্যাণ আশ্রমের মল্লারপুর শাখা। শুধু মাইনো বা কেমনই নন, তাঁদের মতো আরও ২০টি আদিবাসী দম্পতির বিয়ে দিয়েছে আরএসএস-এর কল্যাণ আশ্রম।

মাইনোদের মতোই অধরা টুডু, চিন্তামণি টুডু, ক্ষুদিরাম মার্ডি, ববিতা মার্ডি, নন্দলাল সোরেন, দীপিকা সোরেন— এঁদের কেউ সংসার করছেন ১৫ বছর ধরে, কেউ বা আট বছর। কিন্তু কারোরই আনুষ্ঠানিক বিয়ে না হওয়ায় সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না এতদিন। ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার করলেও আদিবাসী রীতি অনুযায়ী তাঁরা পরিবারের সব শুভ অনুষ্ঠানে ব্রাত্যই থেকেছেন এতদিন। অবশেষে এদিন সামাজিক রীতি মেনেই বিয়ে হওয়ায় তাঁদের সকলেই খুশি।  

পূর্বাঞ্চল কল্যাণ আশ্রমের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের সাংগঠনিক সম্পাদক মহাদেব গড়াই জানান, “আদিবাসী সমাজে মেলায় ছেলেমেয়েরা নিজেরা পছন্দ করে সংসার শুরু করেন। কিন্তু তাঁদের সমাজের নিয়ম, সংসার করার আগে আনুষ্ঠানিক বিয়ে করতে হবে। কিন্তু আর্থিক অসঙ্গতির কারণে সেই অনুষ্ঠান করে উঠতে পারেন না অনেকেই। ফলে কোনও শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন না তাঁরা। এমনকী, মন্দিরে প্রবেশরও অধিকার নেই। এইসব নিয়ম নীতির বেড়াজাল থেকে তাঁদের মুক্ত করতেই এঁদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে দেওয়া হল”।

এই সামাজিক অনুষ্ঠানে পূর্বাঞ্চল কল্যাণ আশ্রমের পাশে দাঁড়িয়েছেন কলকাতার বাগবাজারের বাসিন্দা সত্যব্রত গোয়েল। নিজের বিয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বিয়েতে পাত্রপাত্রীকে দেওয়া হয়েছে শাড়ি, ধুতি। এছাড়া কাঁসার দানও ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া তিন হাজার মানুষকে সকালে মুড়ি, ঘুগনি, বোঁদে খাওয়ানো হয়। দুপুরে ছিল ডাল, ভাত, দু’রকম সবজি ও চাটনি। আশ্রমের সিউড়ি শহর কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ দাস বলেন, “এবার ২১টি দম্পতিকে সমাজে স্বীকৃতি দেওয়া হল। আগামী বছর ১০১টি দম্পতিকে সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর ইচ্ছে রয়েছে।’’

সূত্র: এবেলা

ট্যাগ: