খোকসা প্রতিনিধি: ইটভাটার শ্রমিক আবুল কালাম প্রামাণিকের পর এবার বিনা দোষে মাটিকাটা শ্রমিককে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে থোকসা থানা পুলিশ। অন্যজনের নামের গ্রেফতারি পরোয়ানার সূত্র ধরে আটক রাস্তার মাটি কাটার শ্রমিক আছিয়া খাতুন ১০ ঘন্টা হাজত খাটার পর কোর্ট হাজত থেকে তাকে ফিরিয়ে আনলো একই থানা পুলিশ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, একটি অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলায় শিমুলিয়া ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের নূর ইসলামের স্ত্রী আছিয়া খাতুনের নামে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এই সূত্র ধরে গত ৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে খোকসা থানা পুলিশের এসআই আবুল বাশার শিমুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের রাস্তার মাটি কাটার শ্রমিক আছিয়া খাতুনের বাড়িতে হানা দেয়। মাটিকাটার শ্রমিক ও স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্টের কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হয়ে সে রাতে পুলিশ ফিরে আসে।

পরদিন বুধবার সকালে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় আছিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। পরে কালিশংকরপুর স্কুলের পাশের রাস্তা থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারি পরোয়ানার ব্যক্তি ও আটক শ্রমিক এক ব্যক্তি নয় বলে পুলিশকে নিশ্চিত করার পরেও আছিয়াকে কুষ্টিয়া জেলা সদরের কোর্ট হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, চেয়ারম্যানদের দাবির প্রেক্ষিতে বিকেলে প্রকৃত আসামী (আছিয়া) কে পুলিশ আটক করে। সন্ধ্যায় প্রকৃত আসামীকে কোর্ট হাজতে বুঝে দিয়ে আটক মাটি কাটার শ্রমিক আছিয়াকে ফেরত আনা হয়।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘন্টা পর রাতে তাকে শিমুলিয়ায় বাড়ির লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। গত শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় পুলিশের খামখেয়ালীপনায় আটকের ১০ ঘন্টা পরে মুক্তি পাওয়া আছিয়ার সাথে। তখন সকালের খাবার খাওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিল বিশ্বাস ও মা সুকজান নেছার সাথে দাওয়ায় বসে হাজত খাটার অভিজ্ঞতা বিনিময় করছিলেন। আটকের পর পুলিশের অসহনীয় আচরণের বর্ননা দিতে গিয়ে তার দুই চোখ গড়িয়ে জল পড়তে শুরু করলো।

তিনি কখনও সমিতি থেকে ঋণ নেননি। তার বাড়ির উঠানে আশা সমিতির টাকা লেনদেন হয়। তিনি সেখানে শুধু সঞ্চয় জমা দেন। আটকের পর পুলিশ তাকে শুধু ভয় দেখিয়েছে। কোন কথা শোনেনি। সে অনেক বার ডুকরে কেঁদে পুলিশকে জানানোর চেষ্টা করেছে। আসল আছিয়া ধরা পড়ার পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় পুলিশ তার কাছে ক্ষমা চেয়েছে বলেও সে জানায়।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর সিরাজুল ইসলাম বলেন, আছিয়াকে গ্রেফতারের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ এর আগেও শায়লা নামের এক প্রতিবন্ধি মহিলাকে একই ভাবে আটক করে নিয়ে গিয়েছিল। অবশেষে প্রকৃত আসামী শায়লাকে খুঁজে দিয়ে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। দুটি ঘটনায় তিনি নিজে পুলিশকে অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু পুলিশ শুধু টাকার কথা শোনে বলে মন্তব্য করেন এই ওয়ার্ড সদস্য।

এ ঘটনায় কথা বলার জন্য খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমূল হুদার সরকারী মোবাইল ফোনে কল করা হয় কিন্তু তিনি ফোন ধরেনি।

বিশ্ব শ্রমিক দিবসে বিনা অপরাধে হাজতখানায় শ্রমিক আবুল কালাম

উল্লেখ্য এর আগে গত ১লা মে বিশ্ব শ্রমিক দিবসের দিনে খোকসার ইটভাটার শ্রমিক কালাম প্রামানিককে দুই ঘন্টা থানা হাজতে কাটাতে হয়েছিল পুলিশের ভুলের কারণে। সে ফুলতলা গ্রামের মৃত ফটিক প্রামানিকের ছেলে কালাম প্রামানিক। খোকসা থানার এএসআই নিহার রঞ্জন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।