banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, পৃথিবীতে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা শুধু রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিরা ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে চরম প্রতিশোধ নিয়েছে।

রবিবার (২০ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস ২০১৭ উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা এক কলঙ্কিত জাতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে দেশের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, সেই স্বাধীন দেশেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। জাতি হিসেবে এরচেয়ে বড় কলঙ্কের বিষয় আর কি হতে পারে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল খুনি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান যে মূল খুনি এ বিষয়ে অসংখ্য প্রমাণ আছে। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করেন, বিভিন্নভাবে খুনিদের পুরস্কৃত করেন, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বাধাগ্রস্থ করেন। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে আসতে দেননি। ১৯৮১ সালে  জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে চাপের মুখে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে আসার সুযোগ দিলেও শেখ রেহানাকে দেশে আসতে দেননি। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন। তিনি পাকিস্তানী আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল স্লোগান জয় বাংলাকে উপেক্ষা করে তিনি পাকিস্তানের আদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কায়েম করেন।

প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির বিচার হয় না। সে কারনে সে বিচারের আওতায় আসেনি। তিনি অবিলম্বে তদন্ত করে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানান।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে, সংবিধানকে অবজ্ঞা করে, সংসদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবজ্ঞা ও কটাক্ষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আমরাও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সাংসদদের অযোগ্য ও অপরিপক্ক বলেছেন। কিন্তু তিনি ভেবে দেখেননি যে, সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আর মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান অতিথি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখনই এগিয়ে যায় তখনই চলে নানা ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্র অব্যহত রয়েছে। আপনাদের সবসময় সর্তক থাকতে হবে। এমনকি যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হাই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় শোকদিবস ২০১৭ উদ্যাপন উপ-কমিটির আহবায়ক এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হাই এমপি বলেন, অনেকেই ব্যর্থ হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে এক করতে পেরেছিলেন। আর একারনেই তাঁর হুকুমে আমরা যুদ্ধ করেছি, স্বাধীনতার পতাকা তুলেছি। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কারনে আমরা কলঙ্ক-কালিমায় জর্জরিত, এর থেকে মুক্তি পেতে চাই। মুক্তি পাবো কিনা তা জানি না।

তিনি নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। আশারাখি এই দেশ গড়ার কাফেলায় তরুন সমাজ শরীক হবে। 

সভাপতির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এজন্য আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা করেছি। তিনি দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিতদের পদচারণা ছিল, যা মুক্ত হতে চলেছে। তাদের শেষ চিহ্নটুকু থাকা অবস্থায় আমাদের কার্যক্রম চলবে।  

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্য। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ ছিল সুপরিকল্পিত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ষড়যন্ত্র এখনো চলছে, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। 

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, এদেশের নাগরিক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর খুনের বিচার হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে হত্যার বিচার হয়নি। এমনকি এ হত্যাকান্ডে কারা হুকুমের আসামী এবং কারা মূল ষড়যন্ত্রকারী তা আমরা আজও জানিনা। এজন্য কমিশন গঠন করে তদন্ত করার সময় এসেছে। 

ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান এবং আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরমিন খাতুনের পরিচালনায় আলোচনাসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুুর রহমান, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহা, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ উকিল উদ্দিন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম। সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। 

আলোচনাসভার পূর্বে অনুষদ ভবনের নিচতলায় জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ।