banglanewspaper

অরিন তানবীনঃ ১৫ ই আগস্ট, ১৯৭৫ বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন। এই দিনে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলার রুপকার, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে। যে বুকে শুধু বাঙ্গালী জাতির জন্য হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা ছিলো সেই বুকে ২৪ টি বুলেট বিদ্ধ করেছিলো বাঙ্গালী জাতির একাংশ যারা মুলত পাকিস্তানের দোসর। ততকালীন deputy chief of Army staff মেজর জিয়াউর রহমান সরাসরি এই হত্যাকান্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৩ সালে জিয়াউর রহমান CIA ও ISI এর সাথে গোপন বৈঠক করে ষড়জন্ত্রের জাল বুনে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী কিছু দেশ সহ পরাজিত পাকিস্তান রাষ্ট্র। ততকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো লন্ডনের বিমান বন্দরে বাংলাদেশ এর স্বাধীনতার প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন ” Temporary phenomenon are not reality “. স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তানের সাথে এক করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলে।বঙ্গবন্ধুর খুনের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক ও রশিদ হত্যাকান্ডের আগে জিয়াউর রহমানের কেন্টনমেন্ট এর বাসায় দেখা করতে যায় এবং তাদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে। জিয়াউর রহমান এতে সমর্থন জানান এবং বলেন ” I can’t be involved in such things. If U, junior officers want to do it, Go ahead “.
পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান তাদের বাসায় যেয়ে পরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে খোজ খবর নেন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ততকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একটি সতর্কতা মুলক বানী পাঠান। এর উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেন ” জিয়া, ফারুক তো আমার ছেলের মত, বাবাকে কে খুন করতে আসবে? “.

১৫ ই আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কর্নেল শাফায়েত জামিল জিয়াউর রহমানকে এই সংবাদ দিলে জিয়া নিরুত্তাপ ছিলেন। জিয়া বলেন ” প্রেসিডেন্ট মারা গিয়েছে তো কি হয়েছে? ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে। “

জিয়াউর রহমান শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যায় সহযোগিতাই করেনি, এই হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী আত্মস্বীকৃত খুনিদের বাচাতে, ইতিহাসের কলঙ্কিত আইন ” ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ” জারি করে। খুনিদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করার সাথে সাথে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদুত হিসাবে প্রেরণ করা হয়।

দেশের বাইরে থাকায় বেচে যায় বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা। ১৯৮১ সালে ১৭ ই মে  দেশের মাটিতে পা রাখে শেখ হাসিনা এবং বাবার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে শত বাধা উপেক্ষা করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারিরা থেমে থাকেনি। একিভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ১৯ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। খুনি জিয়ার কুলঙ্গার পুত্র তারেক রহমান বাবার যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে বাবার পথ অবলম্বন করে, ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিঃশ্চিন্ন করার উদ্দেশ্যে। জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ পুরন করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দিনটিকে বেছে নেয়া হয়। তারেক জিয়া ততকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর, ততকালীন জোট সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিনটু, হারিছ চৌধুরী, সাকা চৌধুরী, জামাতের আমির মুজাহিদ সহ বিএনপির শীর্স পর্যায়ের কিছু নেতা সহ হুজি নেতা মুফতি হান্নানের সাথে গোপন বৈঠক করে ” হাওয়া ভবনে “.

শর্তমতে, লুতফুজ্জামান বাবর হুজির আমির আব্দুস সালামকে আশ্বস্ত করেন, ১৯৯৬ সালে ধানখালিতে গ্রেফতার হওয়া ৪১ জনকে জামিনের ব্যবস্থা করে দিবে।

পরিকল্পনা মোতাবেক, ২১ শে আগস্ট আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে ১৫ টি গ্রেনেড নিয়ে যাওয়া হয় আওয়ামীলীগ এর জনসভায়। জনসভা চলাকালীন বিকট শব্দে ১৫ টি গ্রেনেড বিস্ফারিত হয় এবং মুহুর্তে পল্টন এর জনসভা রুপ নেয় মৃত্যু উপত্যকায়। আইভি রহমান সহ ২৪ জন নেতা কর্মী মৃত্যু বরন করে, আহত হয় প্রায় পাচ শতাধিক নেতা কর্মি। নেত্রীর সাথে থাকা আওয়ামীলীগ নেতারা নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে নেত্রীকে রক্ষা করেন। এখনো শরীরে স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছে অনেকে। ভয়াল স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায় আওয়ামীলীগ এর শত শত নেতা কর্মিকে

মুলত আওয়ামীলীগকে নেতৃত্বশুন্য করে দেশকে পাকিস্তানের মত ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিনত করাই ছিলো এই হামলার মুল লক্ষ্য।

জিয়াউর রহমানের কালো আইন ” ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ” এর মতই এই হামলার আসামিদের রক্ষা করার জন্য জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া বাবার পথ অবলম্বন করে ” জজ মিয়া” নাটক সাজায়।

৭৫ পরবর্তি সময়ে ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির নোংরা খেলায় মেতে উঠে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে আমার আহবান থাকবে “আপনারা সঠিক ইতিহাস জানার মাধ্যমে নিজেদের মেধা, মনন ও প্রগতিশীল চিন্তা ধারার মাধ্যমে অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। আপনারাই আগামীর বাংলাদেশ। “

আজ ২১ শে আগস্ট এর এই শোকের দিনে শোককে শক্তিতে পরিনত করে বলতে চাই ” ছাত্রলীগ এর একজন নেতা কর্মীর শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসে আর কোন সেনা সমর্থিত অবৈধ সরকারের বাসভবন ক্যান্টনমেন্ট এ হবে না, আর কোন হাওয়া ভবনের সৃষ্টি হবে না বাংলার মাটিতে।

অরিন তানবীন

ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক,
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ। 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: