banglanewspaper

আহসান রনি: গতকাল কলম্বো শহরে আসতে আসতে সন্ধা হয়ে গেলো। আমি, আকা একসাথে থাকবো এবং ঘুরবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের বন্ধু রিজকিকে আমাদের সাথে থাকতে বলতেই সে এককথায় রাজি হয়ে গেল। ফলে আমরাও খুশি। সাথে একজন শ্রীলঙ্কান থাকলে হোটেল বা ঘোরার ক্ষেত্রে নানা সুবিধা হবে। 
রাতে আমরা পৌঁছালাম কলম্বো। কলম্বো নেমে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওয়ানা হলাম পেত্তাহ-তে। কলম্বোর মূল হচ্ছে পেত্তাহ। সেখানে গিয়ে রিজকি একটা হোটেল খুঁজে দিলো আমাদের জন্য। ফ্রেশ হয়ে হোটেল থেকে বের হয়ে পড়লাম কিছুক্ষনের মধ্যেই। রাতের কলম্বো উপভোগ করতে চাই। 

আকা, রিজকি আর আমি থ্রি ইডিয়টস মিলে রওয়ানা দিলাম গল ফেস বিচের দিকে। রাস্তার লাল লাল আলো দারুণ একটা পরিবেশ তৈরী করেছে। পথে ডোসা, সাম্বার, রুটি, জুস খেয়ে নিলাম। চোখে হালকা হালকা ঘুম, কিন্তু কলম্বোর সৌন্দর্য্য মিস করতেও মন চায় না। 

গল ফেস হচ্ছে কলম্বোর সবচেয়ে আকর্ষনীয় ঘোরার জায়গা। একদম মূল শহরের পাশে দারুণ সাজানো-গোছানো বিচ। রাত হলেও মানুষজনের আনাগোনা কমেনি। সমুদ্রের গর্জন আর ঝড়ের মতো বাতাস মনোমুগ্ধকর। সেখান থেকে কিছুক্ষনের জন্য ক্লাবে ঘুরে আসলাম। রিজকির পরিচিত, ফলে দারুন মজা হলো। দ্রুত রুমে ফিরে আসলাম। সারাদিনের ক্লান্ত দেহ এলিয়ে দিলাম বিছানায়। 

সকালে ঘুম থেকে উঠতে প্রত্যেকেরই দেরী হলো। তবে ফ্রেশ হয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। কলম্বোর পুরোটা দেখে ফেলতে চাই। হোটেল থেকে বের হয়েই সকালের নাস্তা করে নিলাম। পেত্তাহ স্ট্রিট মার্কেটে ঘুরতে গেলাম। আমার দেখা অন্যতম মজার একটি মার্কেট এটি। এমন কিছু নেই যে পাওয়া যায় না!! রাস্তার উপরে বসেছে নানা পণ্যের পসরা। বাংলাদেশে পাওয়া যায় না এরকম অনেক পণ্য চোখে পড়লো। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ফুলের দোকান দেখে তো আমি হতবাক। দেখে বোঝা কষ্টকর যে ফুলগুলো আসল ফুল নয়। নানা ধরনের ফুল, ফুলের তোড়া; এমন ফুলও আছে যা এই উপমহাদেশে পাওয়াই যায় না। সত্যিই অসাধারণ।
সারা মার্কেটের একটি বড় অংশ ঘুরে দেখে, কেনাকাটা করে মনে হলো বাংলাদেশের সব জিনিসেরই আসলে দাম অনেক অনেক বেশি। বাংলাদেশের থেকে অর্ধেক দাম একেকটা জিনিসের। উডঅ্যাপেল জুস খেয়ে তো মাথানষ্ট অবস্থা। বাংলাদেশের কাউকে যে আগে এই জুস খায়নি তাকে এর স্বাদ বোঝানো যাবে না। 
পেত্তাহতেই রয়েছে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় মসজিদ ও অন্যতম বড় মন্দির। দুটোই ঘুরলাম। মসজিদের সৌন্দর্য্য মুগ্ধ করলো। মন্দিরটিতেও অপরুপ কারুকার্য করা। 

সেখান থেকে আমরা রুমে গিয়ে জিনিসপত্রগুলো রেখে এসে বাইরের হালাল রেস্টুরেন্টে গিয়ে পেট ডাবল ভর্তি করে খিচুড়ি, গরুর মাংস ও দারুণ মজার কত্তু ও চিকেন। প্রতিটি খাবার এতো মজা ছিলো আর এতো বেশি খেয়ে ফেললাম যে হাটতে কষ্ট হচ্ছিল!!

 

কাছেই ফ্লোয়েটিং মার্কেট। ট্যুরিস্টদের অন্যতম প্রিয় জায়গা। কিন্তু এখানে জিনিসপত্রের দাম অনেক অনেক বেশি। মার্কেটে লোকজনের আনাগোনা অনেক কম, তবে বোঝা গেল এটি প্রেম করার স্থানে পরিনত হয়েছে। যত মানুষ ওখানে ছিলো তার ৯০% কাপল। সামনের পানিতে সোয়ান বোটেও ওঠা যায়। আমরা সেখানে কিছুক্ষন বসলাম এবং এরপর রওয়ানা দিলাম গল বিচের উদ্দেশ্যে। যেন বিচটির প্রেমে পড়ে গেছি। গতরাতের সৌন্দর্য্য মুগ্ধ করেছে, দিনের সৌন্দর্য্য আরও বেশি মুগ্ধ করলো। 

বিচের পাশে বসে ইনজয় করলাম পুরো সময়টা। সিফুড পাওয়া যায় বিচের পাশেই, অনেক মজার।
বিচের পাশের ওখানেই চলছে ইন্টারন্যাশনাল কাইট ফেস্টের প্রস্তুতি। আকাশে নানা রঙের ঘুড়ির ওড়াওড়ি। দারুন একটা স্মরণীয় সময় কাটলো।


আকা আজ মায়ানমার চলে যাবে ফলে দ্রুত রুমে ফিরে আসলাম। এয়ারপোর্ট পৌঁছে দিয়ে আসলাম এই কয়েকদিনে খুব কাছে চলে আসা বন্ধুকে। আসার সময় রিজকি বলছিল, থ্রি ইডিয়টসের একটা ইডিয়ট চলে গেল!! (চলবে)...

 

ট্যাগ: