banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: কোলেস্টেরল রক্তের মাঝে প্রাপ্ত এক ধরনের ফ্যাট। মস্তিস্ক, ত্বক, এবং অন্যান্য অঙ্গের বৃদ্ধি এবং সঠিকভাবে কাজ করার জন্য দেহে কোলেস্টেরলের প্রয়োজন হয়। তবে এই উপাদানটি প্রয়োজনের তুলনায় দেহে যদি বেশি হয়ে যায় তখন তা নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। 

কোলেস্টেরল রক্তনালিতে জমে গেলে রক্তনালি সরু হয়ে যায় এবং রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে শরীরে অনেক রকম সমস্যা দেখা দেয়। হার্টের রক্তনালিতে জমলে বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক; মস্তিষ্কের রক্তনালিতে জমলে স্ট্রোক, কিডনির রক্তনালিতে জমলে কিডনি ফেইলর এ রকম অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই কীভাবে রক্তের চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা জানা অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১. ৫-১০% দৈহিক ওজন কমালে কোলেস্টেরল মাত্রা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যায়। পরিমিত খাবার গ্রহণ ও দৈহিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন আদর্শ মাত্রায় আনতে হবে। মাসে ২ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানোই যথেষ্ট। ৫ ফুট উচ্চতার জন্য আদর্শ ওজন হচ্ছে ৫৫ কেজি। প্রতি ইঞ্চি উচ্চতা পরিবর্তনে ২ কেজি ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি পেতে পারে।

২. স্বাস্থকর খাবার খেতে হবে। ফাষ্ট ফুড, গিলা, কলিজা, মাথা, ডিমের কুসুম,  ননিযুক্ত দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। শাক সবজি, টমেটো, সসা, খিরা, কপি, সালাদ ও গাজর, লাল চাল ও লাল আটা, সামুদ্রিক মাছ বেশি করে খেতে হব।

৩. চিকন-মোটা নির্বিচারে প্রাপ্ত বয়স্ক সবাইকে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ব্যায়াম করতে হবে। চিকিত্সকের পরামর্শক্রমে প্রতিদিন অন্ততঃ ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। হাটা, হালকা ব্যায়াম, সাতার কিংবা যোগব্যায়াম যেভাবেই হোক ব্যায়াম করতেই হবে। সুবিধামত খেলাধুলা করা যাবে।

৪. ধূমপান এবং মদ্যপান করা যাবে না। এসব বদ অভ্যাস থাকলে আজই ত্যাগ করুন।

৫. সামাজিক জীবন যাপন সুস্বাস্থের জন্য সহায়ক। প্রতিমাসে কমপক্ষে চারদিন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা উচিত্। সামাজিক কর্মসূচীতে হাটাহাটি ও আলোচনার সুযোগ থাকে। দৈহিক ও মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকার পাশাপাশি ক্যালরি খরচও হয়।

৬. ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চললে মানুষের জীবন ছন্দময় হয়। পরিমিত খাবার গ্রহণ, পরিশ্রম, জ্ঞান অর্জন, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা এবং পরোপকার ইত্যাদি শিক্ষা আমরা ধর্ম থেকেই পেয়ে থাকি যা পারিবারিক ও সামাজিক চর্চায় বিস্তৃতি লাভ করে। পরিমিত খাদ্য গ্রহণ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায়।

৭) জীবন যাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিত্সকের পরামর্শক্রমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিমিত ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। সাধারনতঃ দীর্ঘ সময় ওষুধ খেতে হয়। চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ রেখে ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

ট্যাগ: