banglanewspaper

দীর্ঘ ৩০ বছর পর এমন খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশের কয়েক লাখ মানুষ। ১২ আগস্ট থেকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুরসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলার নদীর পানি বেড়ে বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হাজারও গ্রাম। ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোন তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি? কেনো বাঁধ ভাঙলো, এর পেছনের কারণ কি? কেনই বা এতো মানুষের স্বপ্ন এক নিমিষেই ধ্বংস হয়ে গেলো? কেন আজ তাদের জীবন জীবিকা বাঁধাগ্রস্ত? এসব প্রশ্নের উত্তর কারও জানা নাই। 

ত্রাণ দিয়ে তাদের মুখে ক্ষণিকের হাসি ফোটানো সম্ভব। কিন্তু তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। দূর থেকে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলি। কিন্তু যে মানুষ গুলো আজ সহায় সম্বল হারিয়ে শূন্য হয়ে পড়েছে। এখন তাদের জীবন জীবিকার নতুন যদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। কেমন করে ঘুরে দাঁড়াবে। সেই যদ্ধের কথা কেউ আমরা একটি বারের জন্যেও ভাবছি না?

বাঁধে ভাঙন, দায় নেবে কে? এর দায় কি এলাকাবাসীর না সরকারের না পানি উন্নয়ন বোর্ডের, এমন প্রশ্নই দেশবাসির মনে? যে বাঁধগুলো ভেঙেছে এর ব্যাখ্যায় ইদুর আর ঘুবরি পোকার উপর দায় বাতিয়ে গেলো পাউবো। কিন্তু এই বাঁধের বয়স কত? এই বাঁধ গুলো ঠিক আছে কি না? এটা দেখার দায়িত্ব কার জনগণের না প্রশাসনের। যদি প্রশাসনের দায়িত্ব হয়ে থাকে তাহলে তাদের অদায়িত্বশীল বক্তব্য এই ২০১৭ সালে এসে তা বড়ই বেমানান লাগে।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বদ্বীপ ক্ষ্যাত দেশের চারিদিক নদীতে ঘেরা। তাই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকবেই। এতে কোন সন্দেহ থাকার কথাই নেই। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলার করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হয় মানুষকে। এর জন্য প্রশাসনকেও থাকতে হয় সদা প্রস্তুত।সব কিছু প্রতিনিয়তই রাখতে হয় দেখাশোনার মাঝেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করে বলছি, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করুণ। আর খুঁজে বের করুণ এর কারণ। আর যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনুন।এই ভাঙ্গন দিয়েই যদি আপনার সঠিক তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের আওয়াতায় আনেন তাহলেই দেখবেন সামনে থেকে এত দুর্যোগ একেবারেই কমে আসবে।

আর একটি কথা না বললেই নয়, দেশ থেকে সারা জীবনের জন্য বন্যাকে ছুটি দেয়ার জোর দাবি জানাই। দাবি জানাই নদী গুলোকে দ্রুত ড্রেজিং করার। বাঁধ পুননির্মাণে কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে না করিয়ে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দিয়ে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই। যাতে বাঁধের কাজ গুলো পরিপূর্ণ হয়। এতেই রক্ষা পাবে এই জনপদের মানুষ।

স্থানীয় সাংসদের কাছেও আমার প্রশ্ন কেনো আপনারা দুর্গতদের পাশে এখনও যাননি। কেনো আপনারা সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায় বসে আছেন ঢাকায়। কুড়িগ্রাম জেলার চার সংসদ সদস্যের মধ্যে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাংসদ ছাড়া কাউকে দূর্গতদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না। যদিও কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাংসদ তিনদিন পর দুর্গত এলাকায় গেছেন। তবুও ভাল তিনি গেছেন। প্রশ্ন থেকেই ভোটের সময় ভোট নেয়া পর নির্বাচিত হয়ে আপনাদের কাজ শেষ। তাহলে আপনারা কিসের জনপ্রতিনিধি।

জানি এই কথা গুলো আমার প্রাণপ্রিয় জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাবে না। তবুও বলতে চাই আমরা ত্রাণের জন্য ভিক্ষা করতে চাই না। আমরা চাই তারুণ্যনির্ভর মুষ্ঠিবদ্ধ হাত। যে হাত জনগণের জন্য কাজ করবে। জনগণের পাশে থাকবে, দুঃখ-দুর্দশা বুঝবে।

 

আল্লামা ইকবাল অনিক
বার্তাকক্ষ সম্পাদক,
মাছরাঙা টেলিভিশন।

 

 

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: