banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট : গোলাপ ফুল ভালবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। এটি সবার কাছেই প্রিয়। প্রিয়জনের উপহার থেকে শুরু করে ঘর সাজানো, সবখানেই প্রয়োজন গোলাপ ফুল। শহরে যারা বাস করেন তাদের ফুলগাছ লাগানোর মত ততটা জমি নেই। তাই ভবনের ছাদ, বারান্দা, না হয় সিঁড়িঘরটাই ভরসা।

টবে গোলাপ গাছ লাগানোর নিয়ম

আমাদের দেশে অক্টোবর-নভেম্বর মাস চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। প্রথমেই গাছের সঙ্গে মানানসই সাইজের টব সংগ্রহ করতে হবে। প্রতি টবের জন্য দোআঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে একমুঠো হাড়ের গুঁড়ো, দুই চা-চামচ চুন, দু মুঠো ছাই মেশাতে পারলে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকবে।

অল্পবয়সী ভালো ও তরতাজা, দেখে চারা বা কলম লাগানো ভালো। চারা লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে। লাগানোর পর গোড়ায় পানি দিতে হবে। গাছকে খাড়া রাখার জন্য অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। এ কাজে বাঁশের কঞ্চি বা স্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে।

সদ্য লাগানো ফুলের চারা কয়েক দিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে নিতে হয়। এ অবস্থায় সকালে ও বিকেলে রোদে রাখতে হবে।

টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুঁড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচিয়ে দেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে ৩-১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি। এ কাজটি প্রতি ১০ দিনে একবার করে করতে হবে।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

নতুন চারা না লাগিয়ে এক বছরের পুরাতন চারা লাগাতে পারেন।

চারাটি সোজাভাবে গর্তের মধ্যে লাগাতে হবে।

চারাটির শেকড় ভালভাবে মাটি দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেঁকে দিতে হবে।

জোড় কলমের দ্বারা উৎপাদিত চারার জোড়ের স্থানটি মাটি থেকে অন্তত ৩-৪ সে.মি. উপরের দিকে রাখতে হবে।

সার প্রয়োগ

কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি (কালো সার), ১০০ গ্রাম ইউরিয়া (সাদা সার) ও ২৫ গ্রাম এমওপি (লাল সার) একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গাছে এক চা-চামচ করে ১০ দিন অন্তর দিতে হবে। তবে এক মৌসুমে এই রাসায়নিক সার তিনবারের বেশি দেওয়ার দরকার নেই। তবে রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সার কোনোক্রমেই শিকড়ের ওপর না পড়ে। 

পানি দেয়ার নিয়ম

চারা লাগানোর পরে চারার গোড়ায় প্রথম দিকে ঘন ঘন পানি দিতে হবে।

টবের মাটিতে ভালোভাবে চারা গজালে এবং নতুন ডালপালা ছাড়ার পরে খরা মৌসুমে প্রতি ১০ দিন পর পর একবার করে সেচের মতো পানি দিতে হবে।

প্রত্যেকবার পানি সেচের পরে গাছের গোড়ার মাটি ঝরঝরে করে দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ
টবে চাষ করার সময় পোকা আক্রমণ করলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।

পরিচর্যার নিয়ম

চারার জোড়া জায়গাটির নিচের দিক থেকে কোন প্রকার ডালপালা বের হলে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দিন।

বড় আকারে ফুল পেতে হলে প্রথম দিকে বের হওয়া পুষ্পকুড়ি ভেঙ্গে দিন।

মার্চ এপ্রিল মাসে পচা গোবর এবং কম্পোষ্টের মালচ গাছের গোড়ায় দিন।

অধিক পুরাতন ডালে ফুল ভাল হয় না । তাই সাধারনত অক্টবর-নভেম্বর মাসে গোলাপ গাছের ডালপালা ছাঁটাই করা হয়। ছাঁটায়ের সময় মরা ডাল, রোগাক্রান্ত ডালপালা ইত্যাদি ধারালো ছুড়ি দিয়ে কেটে দিতে হবে।

ছাঁটাইকৃত ডাল শুকিয়ে না যায় তার জন্য ডালের সামনে ছত্রাকনাশক ঘন করে গুলে লাগিয়ে দিন।

গাছের গোড়ায় থাকা ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করার জন্য গাছের গোড়া থেকে ২০ সে.মি. দূরে গোল করে মাটি খুঁড়ে শেকড়কে বের করে দিন। এভাবে ৮-১০ দিন রাখতে পারেন।