সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা (অভিশংসন আইন) সংসদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে দুদিনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এর মধ্যে বুধবার সারা দেশের জেলা ও মহানগরে এবং বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জোট। তবে ঢাকায় কর্মসূচির স্থান এবং সময় পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে গত ১৮ অগাস্ট সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে সম্মতি দেয় মন্ত্রিসভা। রোববার এ বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।

১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় উচ্চ আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ নির্ধারণ ও তাদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। কিন্তু ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়। চতুর্থ সংশোধন বাতিল হলে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে এক সামরিক আদেশে বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবটি সংসদে পাস হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক অপসারণের নিয়মটি বাদ পড়বে।

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ক্ষমতসীনরা দেশের মঙ্গল চায় না বলেই গণবিরোধী কালাকানুন তৈরি করে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার করার উদ্যোগ নিয়েছে।’

বর্তমান সংসদ ‘অনির্বাচিত আগন্তুক’ দ্বারা গঠিত মন্তব্য করে বিএনপির এ জেষ্ঠ্য নেতা বলেন, ‘এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই তাদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা দেওয়া হলে মূলত বিচারবিভাগের ক্ষমতা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ৫ জানুয়ারির ‘প্রহসনের’ নির্বাচন করে আজীবন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে এবং বিরোধী দলসহ জনগণকে প্রতিকূলে নিতেই এ আইন করা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরো বলেন, ‘সংবিধানে শাসনবিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচারবিভাগ পুরোপুরি মুক্ত থাকার কথা বলা হলেও আদালতের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে অভিশংসন আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের আদালতগুলোতে বিচারত নিয়োগ ও অপসারণ দুটিই নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে।’  

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার নিরিখে নয়, বরং একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের বিচারপতিরা যেমন নিয়োগ পাবেন, তেমনি যোগ্য ও নিরপেক্ষদের অপসারিত হতে হবে।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিশংসন আইন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তারা সরকারের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ২০ দলীয় জোট বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার ‘কুটিল চক্রান্ত’ রুখে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, জামায়াত ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ড. রেদওয়ান উল্লাহ সাহিদী, খেলাফত মজলিসের ড. আহমেদ আবদুল কাদের, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, পিপলস লীগ মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম এ রশীদ প্রধান, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ন্যাপ ভাসানীর অ্যাড. আযহারুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের (একাংশ) সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোট যুগ্ম মহাসচিব মুফতি তৈয়ব উপস্থিত ছিলেন।