banglanewspaper

আলীনুর রহমান (রানা): পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত যতগুলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ-বিগ্রহ সংগঠিত হয়েছে- অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে প্রায় প্রত্যেকটির পেছনেই ধর্মের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব বিদ্যমান।

ক্রুসেড বলেন, নাৎসি বাহিনীর গণহত্যা বলেন, কিংবা আফগানে সোভিয়েট রাশিয়ার আগ্রাসন, কাশ্মীর, বসনিয়া-চেচনিয়ার গনহত্যা, কিংবা ইজরায়েল-ফিলিস্তিন... সব ঘটনার মূলে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক বিরোধ।

"জীব হত্যা মহাপাপ" - বিশ্বাসে বিশ্বাসী বুদ্ধের অনুসারীদের নীতি আজ ভূলুণ্ঠিত ওই একই কারনে - 'ধর্মীয় বিরোধ '।

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে, ' ধর্ম এসেছে কেন? মানবে মানবে বিরোধ, যুদ্ধাংদেহী মনোভাব উসকে দেবার জন্যে? নাকি সবাইকে প্রীতির বন্ধনে বাধতে?"

যদি ধর্মীয় কারনে খুনাখুনি পূণ্যের কাজ হয় তবে কী হবে সেই ধর্ম পালন করে?

মানুষকে শান্তির পথ না প্রদর্শন করে তাকে যদি হত্যা করাই ধর্ম হয় ; তবে ধর্ম থাকা অপেক্ষা না থাকা শ্রেয়।

আজ আরাকানের অবোধ শিশুকে বুদ্ধের অনুসারীরা পাথরে আছড়ে হত্যা করছে, নারীকে ধর্ষণ করছে, জবাই করে পাষন্ডের মত, বর্বরের মত লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছে।

ধর্মের কী চর্চা!" শয়তান ও হয়ত লজ্জায় মুখ লুকোয়!

যদি হিন্দুকে কাফের বলে হত্যা জায়েজ হয়, যদি মুসলিম হবার কারনে আরাকানে গণহত্যা পূণ্যের কাজ হয়, তবে ধর্মকে ঘৃণা করি।

মানুষ হত্যা কে যারা ধর্ম বলে ভাবছেন, যারা চরমপন্থা অবলম্বন করছেন,  

তারা হয়ত ভুলেই গেছেন,  এ ধর্ম এসেছে মানুষের মঙ্গলের জন্যে।

মানুষই যদি বেঁচে না থাকল, ধর্ম বাঁচবে কী করে?

'গাছের গোড়া কেটে, শাখায় পানি ঢালা'র মত নয় কী ব্যাপারটা?

এই একই কারনে  তিন লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার নিরাপরাধ ইহুদিকে প্রাণ দিতে হয়েছিল, লক্ষ হিন্দু-মুসলিম কে জীবন দিতে হয়েছিল পানিপথের  যুদ্ধে, দীর্ঘদিন ধরে রক্ত ঝরিয়েছিল 'ক্রুসেড'..।

আজ ধর্মকে যারা ব্যবহার করেন ব্যক্তিস্বার্থে,  তারাই উগ্রবাদের জন্ম দেন, তারাই তৈরী করেন ধর্ম রক্ষার নামে তথাকথিত উগ্রবাদী সংগঠন।

এভাবে চলতে থাকলে, একের পর এক গণহত্যা সংগঠিত হলে- কে শুনবে ধর্মের সুমহান বাণী? কে আসবে ধর্মের কাছে নীতি শিখতে?

যে সিদ্ধার্থের অমলিন শিষ্টতায় মুগ্ধ হয়ে মানুষ ভালবেসে বৌদ্ধ হয়েছিল, আজ সেই সিদ্ধার্থের গেরুয়া বসন কলঙ্কিত হল বার্মার নরপিশাচগুলির কারনে।

ইসলামের সুমহান বানীও আজ উপেক্ষিত হয় কতিপয় উগ্রবাদীদের কারনে।

মানুষের শান্তি-মঙ্গল সাধনের উদ্দেশ্যে এসেছে যে ধর্ম, তার বিকৃত ব্যবহার দেখে মানব মনে ধর্মের প্রতি বিতৃষ্ণা জাগাটাই স্বাভাবিক।

কারা জন্ম দিচ্ছে এই বিতৃষ্ণার?

কতিপয় সংকীর্ণমনা, উগ্রবাদী,হিংসুটে গোড়া ধর্মবাদীরাইতো!

এই আধুনিক সভ্যতায় এসেও এই গোড়া চিন্তাধারার মানুষ গুলো এতটা সফল! ভেবে বিস্মিত হতে হয়।

ধর্মের সুশীল ব্যবহার যদি পৃথিবীতে না হয়, ধর্মের কারনে রক্তারক্তি যদি বন্ধ না হয় ; তবে বুঝতে হবে পৃথিবী আজও সংকীর্ণমনার দখলে।

সেক্ষেত্রে শান্তি আনয়নে বিকল্প চিন্তা করতে হবে নতুবা ধর্মের পরিশীলিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 

নচেৎ, পৃথিবীটা হয়ত খুব বেশীদিন মানব সভ্যতার আবাসস্থল হিসেবে থাকবে না।

ই-মেইল: alinurrahman0177@gmail.com

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: