সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এর উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার লাল ফিতা কেটে নবনির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নামফলক উন্মোচনসহ শুভ উদ্বোধন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব মতিউর রহমান।

এ উপলক্ষে ওই দিন বিকেলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স কার্যালয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এক উন্নয়ন সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আ’লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান বলেন, আমার দেয়া ডিও লেটারের ভিত্তিতে সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনের কাজ অনুমোদন এর সকল ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, আমি উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে কেউ দাবী না করার পরও উত্তর পাড়ে কলেজ, বোর্ডারহাট, ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, ব্রীজ কালভার্ট ও রাস্তাঘাটসহ সকল উন্নয়ন কার্যক্রম সুচারুরুপে পরিচালনা করেছি, যা অতীতের কোন জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার পরও করার ন্যূনতম চেষ্টা করেননি। আমি সংসদে স্পষ্টভাবে বলেছিলাম সুরমা ব্রীজের কাজ আমার কর্মকালে সম্পন্ন না করলে আমি জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করবো। তাই আমার আমলেই এই ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের সরকার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন হয়। আপনারা সুরমার উত্তর পাড়ের বাসিন্দারা যুগ যুগ ধরে অধিকার বঞ্চিত ছিলেন। দল জোটসহ বিভিন্ন ব্যানারে আপনাদের ভোট নিয়ে অনেকে এমপি থেকে মন্ত্রী হলেও তারা কেউই সুসম উন্নয়ন করেননি। উন্নয়নের নামে আপনাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তাই আমি সময় সুযোগমতো আপনাদেরকে সুসম উন্নয়ন দিতে পেরেছি। ইনশাল্লাহ আগামীতে নির্বাচিত হয়ে আরোও অনেক উন্নয়ন করবো যা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।  

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকশেদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক  মোঃ শাহনুর মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট আব্দুল করিম, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী ছিদ্দিকা, জেলা যুবলীগ নেতা সবুজ কান্তি দাস, এডভোকেট আজাদুল ইসলাম রতন, বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফুর রহমান জজ মিয়া, সাংবাদিক আল-হেলাল, সুরমা ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম, রঙ্গারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মমিন মিয়া, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, শফিকুল ইসলাম মধু মিয়া, সাবেক মেম্বার মুজিবুর রহমান, ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আব্দুল হান্নান, সাহাজ উদ্দিন ও আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভার শুরুতে পবিত্র ক্বোরআন তেলাওয়াৎ করেন জেলা ওলামালীগ সভাপতি মাওলানা ফজলুল হক নোমানী।

বক্তারা প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবাণ জানিয়ে বলেন, কোন বসন্তের কোকিলকে নয় আমরা এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ্ব মতিউর রহমানকে নৌকার কান্ডারী হিসেবে দেখতে চাই। বিগত দিনে যারা জেলা পরিষদকে লুটেপুটে খেয়েছে তাদেরকে যেন নৌকার মনোনয়ন না দেয়া হয়। আগামী নির্বাচনে জনগনের পরীক্ষিত সেবক ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকদের শেষ আশ্রয়স্থল আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কান্ডারী হিসেবে মতিউর রহমানকে নৌকা প্রতীক দিলে আমরা বিপুল ভোট দিয়ে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই আসনটি উপহার দেবো।

তারা বলেন, মতিউর রহমান এমপি থাকাবস্থায় যেমন আমাদের পাশে ছিলেন তেমনি এমপি না থাকার পরও এখন পর্যন্ত আমাদের পাশে আছেন। কিন্তু হাইব্রীড নেতাদেরকে নির্বাচনের পরে জনগনের পাশে পাওয়া যায় না।