banglanewspaper

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কৃষি তথ্য, কৃষি সমস্যা সমাধান, কৃষকের স্কুল, উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস, কৃষক সমাবেশ, কৃষি বায়োস্কোপ প্রদর্শণ প্রভৃতি সম্প্রসারণ মূলক নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌছেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস। মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সু-সম্পর্কের মাধ্যমে আরো গতিশীল হচ্ছে কৃষি সেবা। 

নিরাপদ উপায়ে ফসল উৎপাদন, শ্রমিক সংকট নিরসনে কৃষিতে যান্ত্রিকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাবী জাতি হিসাবে তৈরী করতে সর্বস্তরে পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিতে নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদনে ভুমিকা রাখছে অফিসটি। এরই ফলশ্রুতিতে বিগত ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে উপজেলাটিতে নিরাপদ উপায়ে সবজির আবাদ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর নৈপথ্যে রয়েছে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ। 

উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস, কৃষক সমাবেশ, কৃষি বায়োস্কোপ প্রদর্শণ প্রভৃতি সম্প্রসারণ মূলক কর্মকান্ডের কারণে নিরাপদ উপায়ে ফসল চাষ সম্প্রসারণে মিরপুর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

তার স্বীকৃতি স্বরুপ জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ডিজিটাল মেলা ২০১৭ তে তিনি নিরাপদ উপায়ে ফসল উৎপাদনে সেরা উপজেলা কৃষি অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন।

ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে তথা বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এছাড়া বর্তমান সরকারের কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বিতরণ, কৃষক সমাবেশ মাটির স্বাস্থ সুরক্ষায় সবুজ সার হিসাবে ধৈঞ্চার চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে দপ্তরটি। 

মিরপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৭’শত হেক্টর জমিতে সবুজ সার হিসাবে ধৈঞ্চার চাষ করা হয়েছে। যার ফলে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।

গত দুই বছরে উপজেলাটিতে ১৩০জন কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন ও বাজারজাত করে সাবলম্বী হয়েছে। এই জৈব সারটি অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের হওয়াতে এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করায় সকল ফসল উৎপাদনে এটির ব্যবহারে কৃষক উৎসাহিত হচ্ছে। 

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র উপস্থাপনে উন্নয়ন মেলা ২০১৭তে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কৃষি বিভাগ কৃষকের ফসল রক্ষায় জাকীয় ইঁদুর নিধন অভিযান ২০১৬ সালে যশোর অ লের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস।  কৃষি যান্ত্রিকরণে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস।  

চিথলিয়া ইউনিয়নে যন্ত্র সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষক অর্ধেক খরচে যন্ত্রের সাহায্যে ধান রোপন, কর্তন, মাড়াই বীজ বপন করতে পারছে। এতে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। অন্যদিকে ভরা মৌসুমে শ্রমিক সংকট নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তামাক আবাদে সম্প্রসারনে নিরুৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগ, কৃষক সমাবেশ, মাঠ দিবস কৃষক র‌্যালী প্রভৃতির কারণে কৃষক তামাক চাষের বিকল্প ফসল আবাদের দিকে ঝুকছে। তার ফল স্বরুপ বিগত অর্থ বছরে সরিষার চাষ হয়েছে ৮শত ২০ হেক্টর তথা পূর্বের দ্বিগুন। ভুট্টার চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩শত ৬৫ হেক্টর যা পূর্বের দ্বিগুন। এছাড়া মসুরের চাষ হয়েছে ২হাজার ৭শত ৬৫ হেক্টর জমিতে, যা পূর্বের চেয়ে তিনগুন। পেঁয়াজ, রসুনসহ মসলা জাতীয় ফসলের চাষ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমানে।

এছাড়া ফসলের নতুন জাত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব রমেশ চন্দ্র ঘোষ। 

উপজেলায় ২০১৬-১৭ আউশ মৌসুমে ব্রিধান ৪৮ জাতটির চাষ হয়েছে ৪ হাজার ২শত হেক্টর জমিতে, ব্রিধান ২৬ চাষ হয়েছে ১হাজার ৮শত হেক্টর জমিতে।

বোরো মৌসুমে ব্রিধান ৫৮, ব্রিধান ৬৩, ব্রিধান ৬৭ জাত এবং আমন মৌসুমে ব্রিধান ১৭, ব্রিধান ৭০, ব্রিধান ৭১, ব্রিধান ৭৫ জাত সমূহ কৃষকরা সাদরে গ্রহণ করেছে।

উপজেলায় তৈল জাতীয় ফসলের মধ্যে বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-১০, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বিনা তিল-৩, বিনা তিল-৪ জাত গুলো সম্প্রসারিত হওয়ায় কৃষক উপকৃত হচ্ছে। 

এছাড়া ডাল জাতীয় ফসলের মধ্যে বারি মসুর-৫, বারি মসুর-৬, বারি মসুর-৭, বিনা মসুর-৫, বিনা মসুর-৬, বিনা মসুর-৭ জাত গুলোর চাষাবাদ সম্প্রসারিত হওয়ায় চাষ বেড়েছে প্রাই তিন গুন। 

কৃষকের পুষ্টি চাহিদা নিরসন কল্পে প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফলবাগান করা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রাম প্রদর্শণীর মাধ্যমে। তাছাড়াও কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকগণ পুষ্টি বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভ করছেন। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বজ্রপাত হতে রক্ষা পাবার নিমিত্তে উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনায় উপজেলার ৪০ টি ব্লকে ২০হাজার তালের বীজ ও খেজুরের  চারা রোপন করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, মিরপুর উপজেলায় কর্মরত প্রত্যেকটি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রচেষ্ঠায় আমরা এ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সঠিক সময়ে কৃষকে পরামর্শ ও কৃষি সহায়তা দিয়েছি। কৃষক/কৃষানীদের কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ফসল উৎপাদন করতে স্বক্ষম হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, কোন ব্যবসায়ী যাতে কৃষকের কাছ থেকে সার, বীজের জন্য অতিরিক্ত টাকা না নিতে পারে এবং ভেজাল সার দিয়ে কৃষককে ক্ষতিগ্রস্থ করতে না পারে এজন্য কৃষি অফিস সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করেছে। 

তিনি আরো বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকের যে কোন কৃষি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও কৃষি সেবা দিতে প্রস্তুত। এছাড়া এ সেবা ও সাফল্য অব্যহত থাকবে বলেন আশাবাদ করেন তিনি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) হায়াত মাহমুদ জানান, কৃষি অফিসের নানান উদ্যোগের ফলে জেলায় নিরাপদ ফসল উৎপাদন এবং কৃষির সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। উন্নয়নের এ ধারাকে আরো গতিশীল করতে আরো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েয়ে। আগামীতে কুষ্টিয়ায় গম, মসুর ও সরিষার চাষ বৃদ্ধি পাবে। 

তিনি আরো বলেন, মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস, কৃষক সমাবেশ, কৃষি বায়োস্কোপ প্রদর্শণ প্রভৃতি সম্প্রসারণ মূলক নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে কৃষি সেবা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া মালটা চাষে সাফল্য অর্জন করেছে মিরপুর কৃষি অফিস। এতে সাধারন কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে। 

ট্যাগ: