ডেস্ক রিপোর্ট : মিরসরাইয়ের দুর্গম পাহাড়ে সন্ধান মিলেছে একটি সুড়ঙ্গের। প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সুড়ঙ্গটি নির্জন পাহাড়ে বিশেষ কায়দায় খনন করা হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শত শত উত্সুক লোক করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের ঢুল্লাছরি এলাকায় সন্ধান পাওয়া সুড়ঙ্গটি দেখতে ভিড় করছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন করেরহাট ও হিঙ্গুলি ইউনিয়নের সীমানার কাছাকাছি দক্ষিণ অলিনগরের ডুইল্ল্যাছড়া নামক পাহাড়ি এলাকায় সুড়ঙ্গটির সন্ধান মেলে। সেদিন বিকালেই জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ও সরকারের দুইটি গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই, ডিজিএফআই) কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

করেরহাট-বারইয়ারহাট সড়কের করেরহাট ইউনিয়নের আকবরনগর আবাসন সড়ক পথে দেড় কিলোমিটার যাওয়ার পর বাকীপথ জমির আইল, পাহাড়ী ছড়া, উঁচুনিচু পাহাড় হয়ে পাঁয়ে হেঁটে প্রায় ৫ কিলোমিটার গেলেই সুড়ঙ্গের অবস্থান। সুড়ঙ্গটির প্রায় ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোন জনবসতি নেই; রয়েছে পাহাড় আর ফসলী জমি। সুড়ঙ্গের সন্ধান যে পাহাড়ে মিলেছে তার পূর্ব পাশের পাহাড় ছিল ঝোঁপঝাঁড়ে পরিপূর্ণ। কদিন আগে অলিনগর বনবিটের আওতায় থাকা ড়ুল্লাছড়ির পাহাড়গুলোতে সম্প্রতি সরকারের বনবিভাগ নতুন বনায়নের জন্যে পরিস্কারের কাজ শুরু করলে এখানকার পাহাড়গুলো ন্যাড়া হয়ে পড়ে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর জঙ্গল পরিস্কারের কাজ করতে গিয়ে বিশেষ কায়দায় খোঁড়া সুড়ঙ্গটি দেখতে পান স্থানীয় দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলম। এরপর থেকে লোকমুখে খবরটি জানাজানি হতে থাকে চর্তুদিকে।

১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার ভোরে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় গ্রামের দুল্লাছড়া নামক পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে। বৃষ্টির পানিতে কাদামাটি ধুয়ে গেলে পাথরের ভেতর তৈরি করা সুড়ঙ্গটি দেখতে পান এলাকাবাসী। কিছুটা গোলাকৃতির সুড়ঙ্গটির ভেতরে প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত প্রবেশ করা গেছে। এরপর তিন দিকে চিকন আরও তিনটি ছোট সুড়ঙ্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী নানা জল্পনাকল্পনা করছেন। দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এক নজর দেখতে আসছে সুড়ঙ্গটি। 

প্রত্যক্ষদর্শী এক পর্যবেক্ষক জানান, এটি একটি ভাল্লুকের গর্ত হতে পারে। সর্বোচ্চ ২৫ ফুট দীর্ঘ এই গর্ত। এই গর্ত দিয়ে ঢুকে আবার সেই মুখ দিয়েই বেরুতে হয়। আর কোনো মুখ নেই এই গর্তের।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি মো. জাহিদুল কবীর বলেন, “এটা বড় কোন ঘটনা নয়। অনেক পুরনো একটি সুড়ঙ্গ। ১০ থেকে ১৫ ফুট লম্বা ধারণা করছি। তবে এটির ভেতরে তিন-চার ফুট পর আর যাওয়া যায় না।’

সুড়ঙ্গটির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ধারণা করছি, প্রাচীন কোনো প্রাণীর বাসস্থান ছিল এটি। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।