নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ অঞ্চলে প্রায় ৪৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি সেতু নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের তিনটি প্যাকেজ বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাথে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোনিকো ও ভিয়েনকোর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্যাকেজ-৩ ও প্যাকেজ-৫ এর আওতায় প্রায় ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা অঞ্চলে ৯টি সেতু এবং গোপালগঞ্জ অঞ্চলে ৭টি সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে মোনিকো লিমিটেড।

প্যাকেজ-৩ এর আওতায় খুলনা অঞ্চলে ৯টি সেতুর মধ্যে কুষ্টিয়ায় তিনটি সেতু (বালিপাড়া সেতু, জি.কে সেতু, বিত্তিপাড়া সেতু), ঝিনাইদহে দুটি (ধোপাঘাটা সেতু, বড়দা সেতু), যশোরে বুড়িভৈরব সেতু, নড়াইলে ঘোড়াখালী সেতু এবং বাগেরহাটে দুটি সেতু (গোরা সেতু, বালাই সেতু) নির্মাণ করা হবে। আর প্যাকেজ-৫ এর আওতায় গোপালগঞ্জ অঞ্চলে ৭টি সেতুর মধ্যে ফরিদপুরে ছয়টি সেতু (করিমপুর সেতু, পরিক্ষীতপুর সেতু, বারাশিয়া সেতু, ধুলদিবাজার সেতু, ব্রাহ্মণকান্দা সেতু, সেনখালি সেতু) এবং মাদারিপুরে আমগ্রাম সেতু নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া প্যাকেজ-৪ এর আওতায় প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল অঞ্চলে ৯টি সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে ডিয়েনকো লিমিটেড।

প্যাকেজ-৪ এর আওতায় বরিশাল অঞ্চলে ৯টি সেতুর মধ্যে বরিশালে সাতটি সেতু (বোয়ালিয়া বাজার সেতু, সৌদেরখাল সেতু, বাকেরগঞ্জ স্টিল সেতু, রহমতপুর সেতু, গয়নাঘাটা সেতু, অশোকাঠি সেতু, রায়েরহাট সেতু), ঝালকাঠিতে তাফালবাড়ীখাল সেতু এবং পিরোজপুরে বটতলা সেতু নির্মাণ করা হবে। 

মন্ত্রী বলেন, প্যাকেজগুলো বাস্তবায়িত হলে খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হবে। যানবাহন চলাচল সহজ ও ত্বরান্বিত হবে। সড়ক ব্যবহারকারীদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় হ্রাস হবে।

চুক্তিপত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোনিকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল আলম ভুইয়া ও ডিয়েনকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম খোরশেদ আলম নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরমধ্যে জাইকা’র প্রকল্প সহায়তা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট টাকার যোগান দিবে বাংলাদেশ সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৬১টি সেতু নির্মাণ করা হবে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় চার হাজার সাতশ’ মিটার। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪২ কিলোমিটার এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হবে।