খুরশীদ আলম মুকুল, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): শিল্পোন্নত অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা সরব হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপির রয়েছে হেভিয়েট অনেকগুলো নেতা। যারা কেউ কারও থেকে কম নই। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচজন ও বিএনপি’র রয়েছে তিনজন।

আমাদের বিডিনিউজ আওয়ার প্রতিনিধি ‘খুরশীদ আলম মুকুল’ এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রার্থীদের নামের তালিকা-

জানা যায়, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বড় দুই রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে তাদের প্রার্থীদের সম্পর্কে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তথ্য নিচ্ছে। অনেক নেতা এরই মধ্যে টিকিট পেতে উপর মহলে জোর লবিং শুরু করেছেন। শিল্পোন্নত অঞ্চল হওয়ায় এই এলাকায় অনেক শিল্পপতি আনাগোনা সব সময় দেখা যায়। শোনা যাচ্ছে, এবার নৌকায় উঠে রূপগঞ্জের অতিথি হয়ে আসতে পারেন বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক পর্যায়ের একজনের নাম।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকায় রয়েছে: বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পপতি গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক), সাবেক সংসদ সদস্য কেএম সফিউল্লাহ, সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল হাই ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান ভূঁইয়া এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া নৌকায় উঠে রূপগঞ্জের অতিথি হয়ে আসতে পারেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনকের ছবির সাথে যোগ করে দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে সায়েম সোবহান আনভীরের ছবি। যদি তাই হয় তবে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে কাড়াকাড়ি হতে পারে শিল্পপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী এবং অপর শিল্পপতি আনভীরের মধ্যে।

অন্যদিকে এবার নৌকায় উঠতে মরিয়া সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহ। বড় পরিসরে না হলেও ঘরোয়া পরিবেশে গুরু করেছেন প্রচারণা। অনেক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারাও চাচ্ছেন আবারও রূপগঞ্জ আসনে লড়াকু সাবেক তিন বাহিনীর প্রধান।

নতুন মুখ হিসেবে রূপগঞ্জের হয়ে জাতীয় সংসদের আসন চান কায়েতপাড়া ইউনিয়েনের বর্তমান চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। এজন্য ভেতরে ভেতরে লবিং চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জের অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। তবে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর নৌকার টিকিট চাইলে সরে দাঁড়াতে পারেন রফিকুল ইসলাম।

আবার গুঞ্জণ রয়েছে, সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল হাই ভূঁইয়া এবং রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাজাহান ভূঁইয়া তেমনভাবে প্রচারণায় না নামলেও অনেক নেতাই জানিয়েছেন আগামী নির্বাচনে নৌকার হাল ধরতে ইচ্ছুক তারা।

এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি’র হয়ে নরায়ণগঞ্জ-১ আসন নিয়ে উপর মহলে দৌঁড়াচ্ছেন তিনজন। আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি কাজী মনিরুজ্জান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এবং বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। এর মধ্যে কাজী মনিরুজ্জামান বিগত সংসদ নির্বাচনে টিকিট পেয়েও নৌকাকে হারাতে পারেননি।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় কিছুটা ব্যাকফুটে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। মামলা হামলার ভয়ে বিএনপি নেতাদের তেমন লাফালাফি চোখে পড়ে না। তবে বন্ধ নেই প্রচারণা। ছোট ছোট পরিসরে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের নিজের পাড়ে ভেড়াতে কাজ করছেন রাঘববোয়ালরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব এলেই নেতাদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়াচ্ছেন এই নেতা। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সাথেও চলছে যোগাযোগ রক্ষা। অন্যদিকে বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারও বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের একত্রিত করছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠকও করছেন এই নেতা।

এছাড়া বিএনপির দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে অনেকটাই সরব ছিলেন এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

তবে প্রচারণায় এই দুই নেতার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন কাজী মনিরুজ্জামান। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রূপগঞ্জেও নেই শক্ত অবস্থানে। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের ঘোষণা অনুযায়ী যারা দলের দুঃসময়ে রাজপথে নেমে আন্দোলন সংগ্রামে পাশে ছিলেন তাদেরকেই আগামী নির্বাচনে টিকিট দিবেন।

সেক্ষেত্রে টিকিট পাওয়ার দৌঁড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারেন কাজী মনিরুজ্জান। অনেক নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটাররা মনে করেন এই আসনে আওয়ামী লীগের যেই আসুক তার সাথে লড়তে প্রয়োজন এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে। দলের আন্দোলন সংগ্রামে তৈমুর আলম খন্দকার যেমন ছিলেন মিছিলের আগে তেমনি মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের চাঙ্গা করতেও কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন সমস্যায়ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সমাধানের পথ খুঁজে দিচ্ছেন এই নেতা।

রূপগঞ্জে সাধারণ মানুষ বলছে, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে যেই আগামী নির্বাচনে টিকিট পান কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং উৎসবমুখর হবে।