অনলাইন গেম ব্লু হোয়েল। ৫০টি ধাপ। যার সর্ব শেষ পরিণতি মৃত্যু। এমনই একটা অনলাইন গেম চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল ১৪ বছরের এক পড়ুয়া! প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই অনুমান পুলিশের।

তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট হওয়ার কারণ:
শুরুতে তুলনামূলক সহজ এবং সাহস আছে কি না এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ায় তা যুবক-যুবতীদের কাছে আকৃষ্ট হয়। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। 

খেলার মাঝপথে বাদ দিতে চাইলে প্রতিযোগীকে ব্লাকমেইল করা হয়। এমনকি তার আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়। আর একবার মোবাইলে এই অ্যাপটি ব্যবহারের পর তা আর ডিলিট করা যায় না। 

• এটি একটি অনলাইন গেম। এই গেমে প্রতিযোগীদের মোট ৫০টি আত্মনির্যাতনমূলক লেভেল কমপ্লিট করতে হয়। সেই সমস্ত লেভেল ও তার টাস্কগুলি খুবই ভয়ংকর। গেম যত এগোতে থাকবে টাস্কগুলি অনেক বেশি ভয়ংকর হতে থাকবে। কিন্তু প্রথম দিকের ধাপগুলি অপেক্ষাকৃত কম ভয়ংকর হওয়ায় টাস্কগুলি বেশ মজার। আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। পরে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বেরোতে পারে না।

• কেমন সেই আত্মনির্যাতনমূলক টাস্ক? কোনো লেভেলে হয়তো নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের শরীরে একাধিক সূচ বিঁধতে। কোনো লেভেলে নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের হাতকে রক্তাক্ত করতে। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা।

• এই টাস্কগুলিতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হলো আত্মহনন।

• এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।