banglanewspaper

জুলফিকার আলী: কোম্পানির প্রচারের দেশপ্রেম ও আমাদের শিক্ষা । একটা দেশের সব মানুষ ভালো থাকবে না এটা আশা করাও যেমন ভুল অন্যদিকে সব খারাপ মানুষও থাকবে না। সেদিন বিকেলে চায়ের আড্ডায় একজন স্যারের সাথে কথা হচ্ছিলি। একটা শিক্ষণীয় গল্প পাইলাম। কোন এক এলাকায় ধনী কিন্তু মূর্খ একজন লোকের খুব ইচ্ছা যে, সে এলাকার ইউপি নির্বাচন করবে।

গ্রামের সবার সাথে কথা বলছে, সে বলছে আমি মেম্বর হলে এলাকায় স্কুল করে দিবো! এলাকার কতিপয় ;লোকের দাবি নির্বাচনের আগে করে দিলে , তার ভোট দিবে। তাই হবু মেম্বর নিজের বাপের গরা সম্পত্তি দিয়ে স্কুল করে দিলো নির্বাচনের আগেই । এলাকার লোকজন তাকে মেম্বর বানালো ভোট দিয়ে। সে মেম্বর হতে পেরেই খুশি।

মেম্বর সাহের নিজে স্বাক্ষর তো দূরে থাকা কলম ধরতেই পারেন না। গ্রামের লোকজন যে কাজেই মেম্বর সাহেবের কাছে আসুক না কেন , মেম্বারের সেক্রেটারি যে কোন কাজই করে দিতেন, মেম্বারের পক্ষ থেকে। মেম্বর সাহেবের কাজ নেই বলেলেই চলে। একিদন মেম্বর সাহেব সেক্রেটারিকে বললেল , পিয়ার আলী। কিছু না পারি টিপসইটা আমার কাছ থেকে নিস। আমাদের দেশে আমাদের মতামত বা প্রতিনিধি নির্বাচনেও ঠিকে তেমনটি ফলো করে থাকি। লোক দেখানো দেশপ্রেম আর সাথে কিছু আর্থিক সুবিধা তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে আমাদের সমাজকে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যে ছেলেটা তার কোম্পানির প্রচারের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, পদ হারিয়ে সে ছেলটি ৮ লাখ টাকা দিয়ে নিজ কোম্পনির কাছে চাকুরী চাই। সংজ্ঞা পড়তে পড়তে আমরা যখন শিখতে থাকি,নিউটন বা আইনস্টাইন কি করছে, পশ্চিমারা তখন এক একজন আইনস্টাইন হয়ে আবিষ্কারের নেশায় ছুটে চলছে গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে। কেন জানি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেবার জন্যই সংজ্ঞা ভিত্তিক পড়াশোনা বা থিওরিটিকাল পড়াশোনার নিমিত্তে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছিল যা আজও যুগের পর যুগ বিদ্যামান, আধুনিকরণ বলতে কিছু নাই।

আপনি যখন “ঢাকা এট্রাক” সিনেমা দেখা নিয়ে ব্যস্ত , তখন বাংলাদেশের ছেলে অন্যদেশের হয়ে অস্কার পেতে যাচ্ছে। ভালো মেধা কে ধরে রাখতে হলে চাই , যোগ্য বিবেচক যা আমরা ১৪ ডিসেম্বর হারিয়ে ফেলেছি। যেগুলো ছিল অযোগ্যদের কাছে যোগ্যতা হারিয়েছে। শিক্ষার হার বাড়তেছে কমতেছে যোগ্যতা। সৃজনশীলতা নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু সৃজনশীলতা মূল্যায়ন করার লোকের অভাব। তিলে তিলে হারাচ্ছে মেধা সম্পদ।

একটা গবেষণায় উঠে এসেছে Bangladesh lose almost 10,000 skilled personnel to the developed world every year, নিশ্চয় বুঝতে পারছেন কি মূল্যবান সম্পদ হারাচ্ছি আমরা। ১০ হাজার দক্ষ লোক তৈরি করতে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় সেটা বহন করতেছে সরকার আর সুবিধা নিচ্ছে অন্যদেশ। তারা কেন যাচ্ছে জানেন, শুধু কোম্পানির প্রচারের জন্য অযোগ্য বিবেচকের কাছে যখন মূল্যয়ন পাচ্ছে না তখন। সেটা দিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। মিথ্যা রাখালের গল্প কার কাছেব সত্যে কথা বলার স্বরূপ হলেও কারো কাছে আবার শিশু শ্রমও বোঝাই, সেটা আমরা মূল্যায়ন করতে পারি না।

আজকে লাখ লাখ বেকার হতে পারতো দেশের বড় সম্পদ যদি প্রাকটিক্যাল বা প্রফেশনাল ভিত্তিক লেখাপড়া হতো, যেটা চায়না -জাপান করে দেখিয়েছে। কোম্পানি প্রচারের জন্য শিক্ষা দিয়ে আর যাই হোক টেকসঅই উন্নয়ন অনেক দূরে। চাই প্রচারবিমুখ দেশপ্রেম ও যোগ্য লোকের সু-অবস্থান নিশ্চিন্ত করা

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: