banglanewspaper

নড়াইল প্রতিনিধি: বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে নড়াইলের জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনাসভা।

সুলতানের শিল্পকর্মের বিষয় ছিলো-কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর তথা খেটে খাওয়া পেশীবহুল মানুষ।

নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা, পাখির কলকাকলীতে ভরা শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন শিল্পী এসএম সুলতান (লাল মিয়া)। বাবা মো. মেছের আলি আর মা মোছা. মাজু বিবি। বাবা-মা আদর করে তার নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। হয়তো তার সুন্দর চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে তার নাম রাখা হয়েছিল লাল মিয়া।

সুলতানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯২৮ সালে রুপগঞ্জ আশ্রম স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ভর্তির মাধ্যমে। ১৯৩৩ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ছেলে শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্কুল পরিদর্শনে আসেন। এ সময় লাল মিয়া তার একটি সুন্দর ছবি আঁকলে তৎকালীন জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়সহ সকলে মুগ্ধ হন। শুরু হয় শিল্পী লালের রং তুলি হাতে নতুন জীবন। শিল্পী হওয়ার মনোবাসনায় লালমিয়া পাড়ি জমান কলকাতার উদ্দেশে।

বাঁশি বাজাতেও পটু ছিলেন সুলতান। শান্তিপ্রিয় সুলতান চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।

ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পল ক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীর ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছিল। কালোত্তীর্ণ এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন।

বরেণ্য এ শিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

ট্যাগ: