banglanewspaper

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, মিয়ানমার সরকারের মধ্য বিভাজন হচ্ছে। সু চি এক কথা বলেন, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রচারে বলে আরেক কথা। 

মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিইইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসন একটি জটিল ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারী ও সহযোগিতা ছাড়া মিয়ানমারকে দীর্ঘ মেয়াদী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আগ্রহী রাখা দুষ্কর হবে। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায় বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এ সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিতভাবে মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে হবে। যাতে দেশটির সরকার রাখাইনে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও জীবন-যাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। সামরিক বাহিনী নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়।

তিনি জানান, ১৯৭৮, ১৯৯২, ২০১২, ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। মিয়ানমারের বিগত সামরিক ও সেনা সমর্থিত সরকারগুলো রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে অধিকার বঞ্চিত করে ‘রাষ্ট্রহীন’ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। ১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের পথ রুদ্ধ করেছে।

২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা চৌকিসমূহে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইনের মংডু, রাথিডং ও বুথিডং এলাকায় অভিযান চালায়। এরপর থেকে রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়তে শুরু করে।

ট্যাগ: