নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন চালিয়ে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী লোকমান হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক মো: শরিফুল ইসলাম এই রায় প্রদান করেন।

লোকমান হোসেন জেলার মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জেলার মান্দা উপজেলার ভরট্ট কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের নাছের কবিরাজের মেয়ে শেফালী বেগম (৪০)। প্রায় ১৫ বছর পূর্বে একই উপজেলার এলেঙ্গা গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে লোকমান হোসেন মিস্ত্রির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বিয়ের ১০ বছর পর হঠাৎ করে স্বামী লোকমান হোসেন আরও ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দাবী করে বসেন। এই দাবীতে প্রায়ই তাকে মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। 

এক পর্যায়ে মারপিট করে শেফালী বেগমকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে কিছু টাকা দিয়ে পুনরায় তাকে স্বামীর বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু যৌতুকলোভী স্বামী তখনও ক্ষান্ত হয়না। পরবর্তীতে মোটরসাইকেল কিনতে আবারও ৭০ হাজার টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে শেফালীর উপর চাপ অব্যাহত রাখে। কিন্তু চাহিদা মোতাবেক টাকা এনে দিতে সে অপারগতা প্রকাশ করলে নির্যাতনের মাত্রা দ্বিগুন হয়। 

এরই এক পর্যায়ে গত ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারী রাতে তার উপর অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়। রাত অনুমান ৪টায় লোকমান হোসেনের প্রতিবেশী সাইদুর রহমান তার মোবাইল ফোন থেকে শেফালীর মৃত্যুর সংবাদ তার ছোট ভাই জালাল উদ্দিনকে জানান।

শেফালীর ছোট ভাই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ঐ দিনই মান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ১১(ক)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে স্বামী লোকমান হোসেন মিস্ত্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের জন্য আদালতে প্রেরন করে। দীর্ঘ শুনানী শেষে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বিজ্ঞ বিচারক এই রায় প্রদান করেন। 

মামলাটির আসামী পক্ষে ওই আদালতের পিপি অ্যাড. নাহিদ মোরশেদ বাবু এবং আসামী পক্ষে অ্যাড. সাজেদুর রহমান বুলু পরিচালনা করেন।