ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) সিনেটের গত ২৯ জুলাইয়ের সভা এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দীন ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুল আজিজকে নিয়ে মনোনীত উপাচার্য প্যানেল অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিনেট গঠন করে উপাচার্য প্যানেল মনোনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের রায়ে এ ঘোষণা ও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে তিন সদস্যের ভিসি প্যানেল মনোনয়নের জন্য চলতি বছরের ২৯ জুলাই ঢাবির বিশেষ সিনেট সভা আহ্বান করা হয়।

পরে ১৬ জুলাই ঢাবি রেজিস্ট্রারের দেয়া এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষক ও রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটসহ ১৫ জন হাইকোর্টে রিট করেন।

তারা রিটে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটের অনেক প্রতিনিধির পদ খালি। সিনেটের প্রতিনিধি হিসেবে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের পদ পূরণ না করে সিনেট সভা ডেকে উপাচার্য প্যানেল মনোনয়ন করা ঠিক নয়।

২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটসহ ১৫ জনের করা ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন এবং সিনেট সভার ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ ১৯৭৩ সালের ২০(১) ধারা অনুযায়ী সিনেট গঠন না করে ২৯ জুলাই ডাকা সভাটি কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল করেন। এরপর ২৬ জুলাই হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ ৩০ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ছাত্র-শিক্ষকদের আপত্তি ও অসন্তোষ সত্ত্বেও এ স্থগিতাদেশের সুবাদে কোনো প্রকার আইনি বাধা ছাড়াই ২৯ জুলাই সিনেটের বিশেষ সভাটি যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তিন সদস্যের ভিসি-প্যানেল মনোনীত করা হয়।