রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ রাজনীতিতে সহমর্মিতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে বলেছেন, বৃটেনের সাড়ে চারশ’ বছরের রাজনীতিকে আমাদের অনুসরণ করতে হবে। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। কেননা সৌহার্দ্য সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা পেলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ আমাদের জন্য সহজ হবে। কে কোন দখল করেন সেটা বিবেচনায় না রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আনয়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। 

বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি জেলা বারের আইনজীবীগণের সঙ্গে এক সৌজন্য আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। এ সময় আরও বলেন, দীর্ঘদিন তিনি জেলা বারের সদস্য হিসেবে এখানে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এ পেশায় থেকেই তিনি রাজনীতি করেছেন। সবসময় সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব যেমন অপরিসীম তেমনি জনগণের দায়িত্বও কোনো অংশে কম নয়। কারণ জনগণই তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে। তাই নির্বাচনের যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী যে কোনো চক্রান্ত মোকাবেলায় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে জঙ্গি হামলার ঘটনা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, শোলাকিয়ার ঈদের জামাত কিশোরগঞ্জের গর্ব। সারা দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা এ জামাতে অংশ নেন। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী ও জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করেছে।

আবদুল হামিদ বলেন, কোনো জঙ্গিবাদী বা সন্ত্রাসী যাতে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে রাজনৈতিক মত-পথ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে পারব, ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করব, ইনশাল্লাহ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই, তা সবাইকে ভাবতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার এরই মধ্যে রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছে। রূপকল্প বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাতে হবে। উন্নয়নের সুফল যাতে ধর্ম-বর্ণ ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ভোগ করতে পারে- তা নিশ্চিত করতে হবে।