banglanewspaper

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বলি হলেন ১১ বাংলাদেশি। বুধবার (১১ অক্টোবর) ভোরে ১১ জনকে আটক করে অ্যারিজোনার দুর্গম ডিপোর্টেশন কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশগামী বিশেষ ফ্লাইটে জোর করে তুলে দেয়া হয়। 

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’র মিডিয়া দপ্তর এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘এটি চলিত কার্যক্রমেরই একটি অংশ। একদিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, অপরদিকে নানাবিধ অপকর্মে লিপ্তদের আমেরিকা থেকে বহিষ্কারের যে কার্যক্রম চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় এদের গ্রেপ্তার করে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হলো।’

বাংলাদেশে যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে- সেলিম আহমেদ, মোজাম্মেল হক, করিম চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, বাবলু শরিফ, মোহাম্মদ বাদল রনি, মোহাম্মদ ফরিদুল মওলা, মনিরুল ইসলাম, নাসরিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আম্বিয়া ও খায়রুল আম্বিয়া। তাদের মধ্যে অনেকেই দুই-তিন দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত ব্যক্তিদের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাসপোর্ট দিয়ে মার্কিন অভিবাসন বিভাগকে সহযোগিতা করেছে। এতে ভুক্তভোগী অভিবাসী ও তাঁদের পরিবার আইনের সাহায্য নেওয়ার আগেই বিতাড়ন-প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে।

কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আটক করার পর মার্কিন অভিবাসন বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেট তাদের দেশের নাগরিক কি না, তদন্ত করে সময় নিলে ওই সব ব্যক্তির পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

সম্প্রতি ব্যাপক ধরপাকড়ে অ্যারিজোনার ফ্লোরেন্স কারেকশন সেন্টারে দুই নারীসহ ২৭ বাংলাদেশি ডিপোর্টেশনের পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। যেকোনো সময় তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্যাঙ্কচুয়ারি সিটিতে অভিযান চালিয়ে গত মাসের শেষ সপ্তাহের ৪ দিনে বাংলাদেশিসহ ৪২ দেশের ৪৮৯ অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে গ্রেপ্তার করেছে আইস (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা। এরা নানা অপকর্মে জড়িত ছিল এবং ইমিগ্রেশনের আইন লঙ্ঘন করে বসবাস করছিল। কর্মকর্তারা আরো জানান, যে সব সিটি প্রশাসন অবৈধ এবং ক্রিমিনাল ইমিগ্র্যান্টদের ধর-পাকড়ে আইসকে সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সেগুলোতে এ ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যেই চালানো হবে।

নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়া, জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন এলাকায় এ অভিযানে কমপক্ষে ৯ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার ঘটেছে। যদিও যারা কোন অপরাধে লিপ্ত নন বা ছিলেন না, তাদের ভয়ের কোন কারণ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। এমন অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে সকলকে পরিচয়পত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাদের পরিচয়পত্র নেই, তারা যেন এমন কিছু সঙ্গে রাখেন যা দিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানো সম্ভব হয়। বিশেষ করে যাদের স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্ট অথবা অন্য কোন কর্মসূচিতে আবেদন পেন্ডিং রয়েছে, তারা যেন এটর্নির পরামর্শ অনুযায়ী চলাচল করেন। এটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ধর-পাকড় চলছে, তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’

ট্যাগ: