banglanewspaper

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকে কুর্দিদের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের জবাবে ইরাকি বাহিনী অভিযান চালিয়ে ‍কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত শহর কিরকুক দখল করে নিয়েছে।

অভিযান শুরুর একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে সোমবার বিকালে ইরাকি এলিট বাহিনীর সশস্ত্র যানের বহর প্রাদেশিক সরকারের সদরদপ্তরগুলো দখল করে নেয় বলে জানিয়েছে সেখানকার অধিবাসীরা। মাত্র ২০ ঘণ্টার অভিযানে কিরকুকের প্রধান নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভবনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরাকের সেনাবাহিনী। নগরীর সর্বত্র উড়ানো হয়েছে ইরাকের জাতীয় পতাকা।

ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের কুর্দিরা বাগদাদের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত ২৫শে সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট করে।

কিরকুক শহরটি কুর্দিস্তানের মধ্যে অবস্থিত না হলেও কুর্দিরা এ শহরটিকে তাদের প্রাণকেন্দ্র বলেই মনে করে এবং গণভোটে এ শহরের কুর্দিরাও অংশ নিয়েছিল।

কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার পক্ষে বিপুল ভোট পড়ার পর থেকেই বাগদাদের সরকারের সাথে তাদের সংঘাত দানা বাঁধতে শুরু করে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি এ গণভোটকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু আঞ্চলিক সরকার এই ভোটকে বৈধ বলে উল্লেখ করছে।
বাগদাদের সরকার বলছে পেশমার্গা কোনো ধরনের যুদ্ধ ছাড়াই এ অভিযান থেকে পিছু হটেছে। যদিও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষ চলছে এবং বন্দুকযুদ্ধের শব্দ বিবিসির ক্যামেরাম্যানের হাতে ধরা পড়েছে।

অভিযানে দক্ষিণের তেলখনিগুলোসহ কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিরকুক শহরের 'বড় অংশ'নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে ইরাকের সরকারি বাহিনী।
অন্যদিকে কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকার কিরকুকে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হাতছাড়া হওয়ার খবরও অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা ইরাকে সব দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে যেন উত্তেজনা কিছুটা কমানো যায়।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন তারা কোনো পক্ষ ধরছেন না।
"তারা যে কারণে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে আমার সেই কারণটা জানা প্রয়োজন" বলেছেন মি: ট্রাম্প।

বাগদাদ ও কুর্দিদের মধ্যে পুরোদমে সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।