banglanewspaper

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে অবিরাম ভারী বর্ষণে আমন ধান চাষীরা ক্ষতির সম্মুখে। জেলার ৬ উপজেলায় দু’দিনের অবিরাম বর্ষণে আমন ধানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ কারণে কৃষকরা এবার আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হবেন বলে জানিয়েছেন। 

কৃষকরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ঝিনাইদহের উপর দিয়ে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে সেই বৃষ্টিপাত ব্যাপক আকার ধারন করে। দিনভর থেকে থেমে কখনও হালকা আবার কখনও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টিপাতের কারনে উপজেলার অনেক নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এদিকে অবিরাম বৃষ্টির কারনে আমন ধানের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, অবিরাম বৃষ্টি ও হালকা বাতাসের কারনে মাঠের পর মাঠ ধানের ক্ষেত মাটিতে শুয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার আরাপপুর, মুরারীদহ, চরখাজুরা,পবহাটি, হীরাডাঙ্গা, হলিধানী, নাটাবাড়ীয়া, নগরবাথান, ডাকবাংলা, হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়ীয়া, সড়াতলা বোয়ালিয়া, হরিশপুর, সাতব্রীজ এলাকা, শৈলকুপার নাকোইল, ভটাই, দুধসর , গাড়াগঞ্জ, শেখপাড়া, কালীগঞ্জের প্রায় অধিকাংশ ধান ক্ষেত পানির নিচে। কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে একই অবস্থা। এসব এলাকায় ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশায় চোখে অন্ধকার দেখছেন কৃসকেরা। 

হলিধানী এলাকার কৃষক রাকিবুল ইসলাম জবেদ বলেন, মাঠের অধিকাংশ আমন ধান পাকার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারনে সেই সব ধান এখন পানির নিচে অবস্থান করছে। 

ডাবাংলার কৃষক গিয়াস উদ্দীন বলেন, অবিরাম বৃষ্টির কারণে ধানজমি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকেরা এখন দিশেহারা। আর্থিকভাবে চরম ক্ষতি হবে বলে তাদের। এজন্য তিনি সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা ডঃ খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ৪/৫ গোছা করে ঝুটি বাধার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ক্ষতির পরিমান অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ধানের ক্ষেতে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ক্ষতির পরিমান নির্ধারনের জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।