banglanewspaper

সাবিকুন্নাহার স্বর্ণা: শীতের সকালে মায়ের ডাকেই বিছানা ছেড়ে উঠতাম। যদিও তখন খুবই বিরক্তি লাগতো, তারপরও না উঠে যে উপায় নাই। স্কুলে না গেলে স্যারের পিটুনি, কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা, আব্বুর সিগনেচারসহ দরখাস্ত নিয়ে যাওয়া যে এক মহা ঝামেলা। তাই মাঝে মাঝে ভাবতাম "যদি বড় মাপের কোনো ঝড় হত এবং স্কুলঘর ভেঙ্গে যেত তবে বুঝি মুক্তি মিলবে। কিন্তু সেই মুক্তি যে আমার আজও হয়নি, আজও আমি বন্দী হয়ে "ছুটি" গল্পের ফটিকের মতো দিন গুনি, কবে ক্যাম্পাস ছুটি হবে আর আমি বাড়ি যাবো।

পরিবার ছেড়ে শত শত মাইল দূরে থাকি এখন। মা-বাবা কেউই এখন কাছে নেই। কাছে নেই সেই আদরের ভাইটি। যার সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া, মারামারি লেগেই থাকতো। একটি কথা খুব মনে পড়ে, ভাইয়ের সাথে যখন ঝগড়া করতাম আর ভাইয়া আম্মুর কাছে নালিশ করতো, তখন আম্মু আমার পক্ষ নিয়ে বলতেন "স্বর্ণাকে এমন যায়গায় বিয়ে দিব যে ও সহজে আসতে পারবে না। ভাইয়া তখন খুব খুশি হত। কারণ দূরে বিয়ে হলে তো সহজে এসে তার সাথে ঝগড়া করতে পারব না। তখন উত্তরে আমি বলতাম "যাওয়ার সময় আমার সবকিছু নিয়ে যাব, এমনকি বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বড়ই গাছটিও।

বিয়ে হয়নি তবু পরিবার ছেড়ে আপনজনদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে এসেছি। সেই বড়ই গাছ তো দূরে থাক নিজের প্রয়জোনীয় জিনিসগুলোই আনার উপায় নেই। খেয়ে থাকি না খেয়ে থাকি, সুস্থ থাকি আর অসুস্থ থাকি পরিবারকে বলতে হয় "আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি"। দুবেলা না খেয়ে থাকলেও এখানে কেউ জিজ্ঞেস করে না, জ্বরে ভুগলেও কেউ যত্ন করে না, মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেয় না ঠিক বাবার মতো করে।

তাই মাঝে মাঝে মনে হয় কবে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হবে আর আমি আমার ভালবাসার মানুষদের কাছে ফিরে যাবো।

লেখা : সাবিকুন্নাহার স্বর্ণা

পরিসংখ্যান বিভাগ, ১ম বর্ষ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)