banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযানে মালয়েশিয়ায় ৩৯ বাংলাদেশিসহ ১১৩ জন বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় গত সোমবার সেলাঙ্গুর ক্লাং জালান কেবুনের একটি সুপার মার্কেটের গুদামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

 মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমপ্রতি সংবাদমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো শ্রমিককে তারা ওই দেশে থাকতে দেবে না।  

মালয়েশিয়ার মোট শ্রমশক্তির ১৬ শতাংশই বিদেশী। দেশের ওপর চাপ কমাতেই অবৈধদের বিরুদ্ধে এই অভিযানে নেমেছে দেশটির সরকার। অভিযানে প্রায় চার লাখ অবৈধ অভিবাসীকে ধরে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে মালয়েশিয়ার অভিবাসন দপ্তর জানায়।  

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিরেক্টর-জেনারেল দাতুকে সেরী মুস্তফার আলী গণমাধ্যমকে বলেন, মার্কেটের গুদামে কাজ করার সময় ১৫০ জন বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে সঠিক ভ্রমণ নথিপত্র না থাকায় ১১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ জন নেপালি, ৩৯ জন বাংলাদেশি, ২৭ জন পাকিস্তানি, ৫ জন ভিয়েতনামি এবং দুই জন ভারতীয় নাগরিক।

ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিজি আরো বলেন, চলতি বছরের প্রথম থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ২৪৯টি অভিযানে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৮ বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৯০৯ জনের কাছে কোনো বৈধ কাগজ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এ সময়ে অবৈধ বিদেশিদের নিয়োগ দেয়ায় ১ হাজার ৮৭ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৪২ হাজার ৯৮৫ অবৈধ বিদেশিকে মালয়েশিয়া ছাড়তে হয়েছে।

মুস্তফার আলী বলেন, আমরা জনগণকে অবৈধ বিদেশিদের বন্দী করতে বলি না। কারও কাছে অবৈধ বিদেশিদের নিয়োগ দেয়ার তথ্য থাকলে অবিলম্বে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছেও।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের হিসাবমতে, মালয়েশিয়ায় পাঁচ লাখের মতো বাংলাদেশী শ্রমিক কর্মরত আছেন, যাদের একটি বড় অংশ বৈধতার জন্য সে দেশের সরকারের দেয়া সুযোগ এরইমধ্যে কাজে লাগিয়েছেন। বাকি  প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার শ্রমিক এ সুযোগ নিতে ব্যর্থ হন।

ট্যাগ: