banglanewspaper

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অনেক জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে স্পেন থেকে কাতালোনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। শুক্রবার কাতালোনিয়ার পার্লামেন্ট স্বাধীন কাতালান প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক অনুমোদনের কারণে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাতালানের একটা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। ভোটের ফলাফল যখন ঘোষিত হয় তখন পার্লামেন্ট ভবনের ভিতরে ও বাইরে সকলে আনন্দে ফেটে পড়ে।

শুক্রবারের এই ভোটাভুটিতে ৭০ ভোট পড়েছে স্বাধীনতার পক্ষে এবং ১০ ভোট পড়েছে স্বাধীনতার বিপক্ষে। দুইটি ব্যালট ছিল খালি। বিরোধীরা নীরবে পার্লামেন্ট ভবন থেকে বেরিয়ে যায় বলে সিএনবিসি, বিবিসি’র খবরে বলা হয়।

স্পেনের সম্পদশালী রাজ্য কাতালোনিয়াকে নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল তা চরমে পৌঁছেছিল। শুক্রবার কাতালোনিয়া সংকট নিরসনের জন্য বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ পার্লামেন্টে পাল্টাপাল্টি ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কাতালোনিয়া ভোট দিয়েছে, রাজ্যটি স্বাধীনতা ঘোষণা করবে কি করবে না প্রশ্নে। আর মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকার ভোটাভুটি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ১৫৫ ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে আঞ্চলিক সরকার বাতিল করে কেন্দ্র সরাসরি কাতালোনিয়ার শাসনভার গ্রহণ করবে কিনা প্রশ্নে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্সেলোনা এবং মাদ্রিদের শুক্রবারের পাল্টাপাল্টি ভোটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সাংবিধানিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কাতালোনিয়া আইনকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছে। ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর কাতালোনিয়ার পার্লামেন্টে যা ঘটেছে তা হলো গণতন্ত্রের জন্য হাস্যকর একটা বিষয়। সে সময়ে দুটি অবৈধ আইন পাস হয়েছে এবং গণভোটের ডাক দিয়েছে।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় কাতালোনিয়ার শাসনভার কেন্দ্রের হাতে নিয়ে আসার পক্ষে ভোট দিতে সিনেটরদের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি কাতালোনিয়ান নেতা কার্লেস পিগমন্ট, তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রীদের বাতিল করে দিতে চান। রাজয়ের এই আহবান বিপুল করতালিতে স্বাগত জানায় সিনেটররা।

কাতালোনিয়া এবং স্পেনের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটটি দীর্ঘদিন থেকেই তৈরি হয়ে আসছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাতালোনিয়ার সিদ্ধানের মধ্যে বিচ্ছিন্নবাদিতা এবং আত্মপরিচয়ের একটা বিষয় আছে। গত কয়েক দশক থেকেই কাতালোনিয়া একটি সম্পদশালী অঞ্চল। এর মধ্যে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে বেশ কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক ও অস্বীকৃত ভোটও হয়ে গেছে।

সর্বশেষ ভোট হলো ১ অক্টোবর এবং প্রকাশ্য, আনুষ্ঠানিক ও স্বীকৃত। কাতালোনিয়ার ২২ লাখ ৬০ হাজার লোকের ৯০ শতাংশ ভোট দিয়েছে স্বাধীনতার পক্ষে। কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষেও লোকজন রাস্তায় নেমেছ্।ে তাদের শ্লোগান ছিল ‘স্ট্রং টুগেদার’।

পক্ষান্তরে কাতালোনিয়ার নেতা কার্লেস পিগমন্ট স্বাধীনতার ভোটকে কেন্দ্র করে বেশ বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। তিনি খুব দ্রæতই এই ভোট বাতিল করে দেন এবং স্পেনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। তার এই প্রস্তাব মাদ্রিদের কাছে গ্রাহ্য হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যস্থতা চেয়েও ব্যর্থ হন।

কারণ স্পেনের রাজয় সরকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একজন অন্ধ সমর্থক। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলে দিয়েছে, তারা স্বাধীন কাতালোনিয়াকে স্বীকৃতি দেবে না।

ট্যাগ: