banglanewspaper

লাগামহীন পেঁয়াজের দাম। রাজধানীর খুচরা বাজারে রোববার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। অথচ এক মাস আগে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায়। সে হিসাবে গত এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। এর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

ভারত অংশের হিলি স্থলবন্দরের রপ্তানিকারকরা জানান, ভারতের ইন্দোর, ব্যাঙ্গালুর, নাসিক, পাটনা ও লাসালগাঁও অঞ্চলে পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন হয়। এবার সেসব অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, বন্যা আর রোগবালাইয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে নাসিক জেলার লাসালগাঁই এবং মান্দি হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় বাজার। গত ৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮ থেকে ৩২ রুপিতে রপ্তানি করা হয়েছিল। এর আগে প্রতি কেজি রপ্তানি করা হয় ২২ থেকে ২৮ রুপিতে। এখন রপ্তানি মূল্য আরও বাড়াছে। 
 
এই বন্দরের কাঁচাপণ্য আমদানিকারক মোবারক হোসেন, মোর্শেদ ও এনামুল হক চৌধুরী জানান, প্রতিদিনই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ভারত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর এ কারণে বন্দরের মোকামেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তারা জানান, শনিবার দুপুরের পর থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৬ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তারপরও আমদানি করে বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। তবে বন্দরের মোকামে যেভাবে দাম বাড়ছে, রাজধানীতে বাড়ছে তারচেয়ে অনেক বেশি।

এদিকে রোববার সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের কোনো সংকট দেখা যায়নি। বাজারে পাইকারি আড়তে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের বস্তা দেখা গেছে। আর খুচরা বাজারেও কোনো ধরনের সংকট লক্ষ করা যায়নি।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের পেঁয়াজের বাজার ভারত থেকে আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়েছে, তাই দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিও কমে গেছে। এ কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম একটু বাড়তি।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। তখন দাম কমে আসবে। 

ট্যাগ: