banglanewspaper

অর্থনীতি ডেস্ক: টাকার এক কোনায় সামান্য একটু ছেঁড়া আছে, সে জন্য সেই টাকা পাল্টে দিতে বললেন। তখন সেই প্রতিবেশী মানুষটি পড়লেন মহাবিপদে। পকেটে সেই মুহৃর্তে আর তেমন টাকা ছিল না, যা মাংস বিক্রেতাকে দিতে পারেন। দোকানিকে যতই তিনি বোঝানোর চেষ্টা করলেন এই ছেঁড়ায় কোনো সমস্যা হবে না; কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো। দোকানির সাফ কথা, ‘স্যার, এই টাকা কেউ নেবে না। ব্যাংকের ডিপিএসে জমা দিতে পারব না। আপনি পাল্টে না দিলে আমার পুরাই ক্ষতি হয়ে যাবে। ’ বাধ্য হয়ে তিনি দুই কেজির পরিবর্তে এক কেজি মাংস নিয়ে বাড়ি এলেন। এরপর বিকেলে যখন তাঁর সঙ্গে দেখা হলো, আমাকে সেই ৫০০ টাকা দিয়ে বললেন, এটা কী করা যায়? খুব সামান্য একটু ছেঁড়া ছিল। দুই শতাংশ হবে সম্ভবত। আমি বললাম, এই টাকায় সমস্যা নেই, চলবে। যেকোনো ব্যাংকের শাখায় নিয়ে গেলে পাল্টে দেবে। তখন তিনি ওপরের বিষয় খুলে বললেন।

আসলে ছেঁড়া–ফাটা নোট বদলে নেওয়ার বিষয়ে সামান্য ধারণা না থাকার কারণে অনেককেই এই ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় ছেঁড়া বড় নোট বাজারে চলবে কি না, এই দুশ্চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গ্রাহক। ব্যাগের এক কোনায় পড়েই থাকে অচল নোটটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ছেঁড়া–ফাটা নোট যদি বদলযোগ্য হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেও বদলে নেওয়া যায়। অবস্থাভেদে ১০০ ভাগ, ৭৫ ভাগ, ৫০ ভাগ রিফান্ড করা হয়। সাধারণত ৫১ শতাংশের কম ছেঁড়া থাকলে নোটের পুরো মূল্যমানই প্রদান করা হয়। তবে একটি নোটের অর্ধেকও কম অংশ থাকলে, তা আর রিফান্ড করা হয় না।

এ ছাড়া দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে বদল করে নেওয়া যায় ছেঁড়া–ফাটা নোট এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তা মূলত কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হয়ে অল্প ছেঁড়া–ফাটা ও ময়লা নোটের বিপরীতে সম্পূর্ণ বিনিময়মূল্য (১০০ ভাগ) প্রদান করে থাকেন। গ্রাহকের উপস্থাপিত নোটটির সম্পূর্ণ নোটের তিন–চতুর্থাংশ বিদ্যমান থাকতে হবে এবং আসল নোট হিসেবে শনাক্ত হতে হবে। উপস্থাপিত নোট একাধিক খণ্ডিত হলে দুটি খণ্ডই একই নোটের অংশ হতে হবে। একই টাকা প্রমাণ বোঝাতে পেছনে সরু কাগজ দিয়ে জোড়া লাগানো যাবে।

ব্যাংকগুলোর নির্দেশনায় বলা আছে, তিন–চতুর্থাংশ ছেঁড়া ও ময়লা নোটের ক্ষেত্রে জমা মূল্য সঙ্গে সঙ্গেই প্রদান করা হবে। অধিক ছেঁড়া, অত্যধিক জীর্ণ, আগুনে পোড়া, ঝলসানো এবং তিন–চতুর্থাংশের কম রয়েছে—এমন নোটের বিনিময়মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রদান করা হবে। এই মূল্য সংগ্রহের জন্য এসব নোট বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণের ডাক বা কুরিয়ার মাশুল নোট জমাদানকারী থেকে আদায় করা হবে।

ট্যাগ: