banglanewspaper

দেশের ৩২টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম মূল্যায়িত করে তাদের (বিশ্ববিদ্যালয়) র‌্যাংক নির্ধারণ করেছে কয়েকটি স্বনামধন্য পত্রিকা। এই র‌্যাংকিং দেখে আমার আগের একটি র‌্যাংকিংয়ের কথা মনে পড়ছে। সে র‌্যাংকিং করেছিল এক প্রতিষ্ঠান, যার কর্ণধার ছিলেন ইউজিসি’র তৎকালীন চেয়ারম্যানের ভাগ্নে। তিনি বর্তমানে তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে মোটর গ্যারেজের ব্যবসায় নেমেছেন। 

তবে আজকের মূল্যায়নটা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেননা, ওআরজি কোয়েষ্ট অপেক্ষা বেশী খ্যাতিমান ব্যক্তিগণ তার সাথে জড়িত হয়েছেন। সেই সংগঠনের দেওয়া তথ্যের উপরই র‌্যাংকিং হয়েছে বলে আমি তাদের দায়িত্ব সীমিত বলে মনে করি। র‌্যাংকিং এ অবস্থান করে নেওয়া এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যাদের ভিসি, প্রো-ভিসি বা কোষাধ্যক্ষ নেই। এমন বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা জঙ্গীবাদের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন। 

এছাড়া যে মিডিয়া এই র‌্যাংকিং করেছে তাদের রয়েছে নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের একজন অধ্যাপক মুখ্য মূল্যায়ক হিসাবে আছেন। র‌্যাংক পাওয়া সব ক’টি বিশ্ববিদ্যালয় মাত্রাতিরিক্ত খন্ডকালীন শিক্ষক ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু র‌্যাংকিংয়ে নাম না থাকলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা ৯৭ ভাগ পূর্ণকালীন শিক্ষক ব্যবহার করে আসছে।

এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ প্রয়োজন ছিল যারা মানোন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠার দিন থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সূলভে মান-সম্পন্ন শিক্ষা দিচ্ছে, যার প্রকাশনায় অন্তত তিন/চারটি নামকরা জার্নাল আছে। যারা রীতিমত সেমিনার সিম্পোজিয়াম ও শিক্ষা সম্পর্কিত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নের ফলাফল এখন প্রকাশিত হলেও তা দিয়ে কে কতটা উৎসাহিত হবে তাও একটি বড় প্রশ্ন। তাছাড়া ফ্যাকচুয়েল ও পারসেপচুয়াল মানের বন্টন যথাক্রমে ৬০ ভাগ ও ৪০ ভাগ হলে সত্যের প্রকাশটা কিছুটা বাস্তবতার কাছাকাছি হত। 

আর একটি প্রশ্ন: ৮৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্তরে ৩২টি এবং দ্বিতীয় স্তরে ২০টি নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে করা হয়েছে তাও গ্রহণ যোগ্যতার মাত্রা নির্ণয় করবে।

পরিশেষে ইউজিসিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, তারা এই র‌্যাংকিংকে আমলে নেন নি। আমি মনে করি এসব অনির্ভরযোগ্য র‌্যাংকিং এর উপর নির্ভর না করে বরং উচ্চ-শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের মতামতের উপর ভিত্তি করা যেতে পারে।

তবে বিপদ হচ্ছে এসব রিপোর্টের আয়ু আজকাল অনলাইন পত্রিকা বা আইসিটি’র কারণে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কারণ এখন ভর্তির সিজন। যার কারনে শিক্ষার্থীরা ভূল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতে পারে। এই আশংকটা বেশি করছি।

মোঃ কামরুল হোসেন
সোবহানবাগ, ঢাকা
Email: hossainkamrul189@gmail.com

 

আরও পড়ুন: 

-> ইউজিসিকে ঢেলে সাজাতে হবে : প্রফেসর ড. দুর্গাদাস ভট্টাচার্য

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: