banglanewspaper

কাজী সাইফুল, কুমারখালী থেকে: এরই মধ্যে স্বর্ণকন্যা নামে পরিচিতি পেয়েছে জুনিয়র এ্যাথলেটিক্স আইভি আক্তার অরিন। পরিবারের সবাই তাকে ডাকে মিষ্টি বলেই। এবারের জাতীয় জুনিয়র এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ৪টি স্বর্ণ এবং ১টি রোপ্য পদক ঘরে এনেছে সে। বিকেএসপির হয়ে কিশোরী গ্রুপ হতে পাঁচটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে মিষ্টি।

এর মধ্যে ৪০০ ও ৮০০ মিটার দৌড়, রিলে রেসে এবং জ্যাবলিং খেলে এই চারটি ইভেন্টে স্বর্ণ পদক এবং ২০০ মিটার দৌড়ে একটি রোপ্য পদক অর্জন করে।

এবারের আসরে বিকেএসপি প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে ১৭টি স্বর্ণপদক, ১০টি রোপ্য এবং ৫টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। এর মধ্যে মিষ্টি'র একক অর্জন ৪টি স্বর্ণ এবং ১টি রোপ্য পদক।

জানা যায়, এবারের ৩৩তম জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০১৭ আসরে ৮টি বিভাগের ৬৪ জেলার বিকেএসপি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করে। গত ৫ই নভেম্বর শুরু হয়ে ৬ই নভেম্বর শেষ হওয়া এই আসরে ৪টি গ্রুপে (বালক-বালিকা) ও (কিশোর-কিশোরী)'দের ৩৩ ইভেন্টের মধ্যে ১৭ ইভেন্টে স্বর্ণপদক সহ দশটি রোপ্য ও পাঁচটি ব্রোঞ্জ জিতেছে বিকেএসপি। দুইদিন ব্যাপি এই প্রতিযোগিতায় ৪টি গ্রুপে ৩৩টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বালক-বালিকা গ্রুপ ১৪টি ইভেন্টে কিশোর-কিশোরী গ্রুপ ১৯টি ইভেন্টে খেলায় অংশগ্রহণ করে।

এদিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় খুব সাধারণ পরিবারে ছোট বেলা থেকে বেড়ে উঠেছে মিষ্টি। বাবা আক্তারুজ্জামান পেশায় একজন ড্রাইভার। আর মা জলি খাতুন গৃহিনী। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ ছিলো তার। আর তাই তো মায়ের প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর অনুপ্রেরণায় ছোট বেলা থেকেই নিজেকে একজন খেলোয়ার হিসাবে গড়ে তুলতে শুরু করেন। মায়ের অনুপ্রেরণায় ২০১১ সালে ইন্টার-স্কুল এ্যাথলেটিক্সে খুলনা বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর তাকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। মিষ্টির ছোট বোন রিনভি আক্তার তৃপ্তিও বিকেএসপির শিক্ষার্থী। এর মধ্যেই তৃপ্তিও তার ক্রীড়া নৈপূর্ণ্যতা দেখাতে শুরু করেছে এ বছরের ৯ই জানুয়ারী-২০১৭ লং টেনিসে অনুর্ধ ১৬ দলের হয়ে থাইল্যান্ডে খেলায় অংশ নেয়।

মিষ্টি জানায়, মূলত আমি এ্যাথলেটিক্স খেলোয়াড় এর মাধ্যমেই আমার ক্রীড়াঙ্গনে প্রবেশ। তবুও আমাকে হকি খুবই টানে। যদি সুযোগ পায় হকিতে নিয়মিত হতে চাই। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে আরো ছড়িয়ে দিতে চাই।

দুই সন্তান মিষ্টি ও তৃপ্তির এমন সাফল্যে বাবা আক্তারুজ্জামান ও মা জলি খাতুন খুবই গর্বিত ও আনন্দিত।

জানা যায়, মিষ্টি ২০১৪ সালে ৭ম শ্রেণীতে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়। এরপর এ্যাথলেটিক্সে ১০০, ২০০ এবং পরে ৪০০ মিটার খেলে। সে জাতীয় পর্যায়ে ২০১৫ সালে ৪০০ মিটার রিলে রেসে স্বর্ণপদক পায়। এ্যাথলেটিক্সে ২০১৬ সালে অনুর্ধ ১৬ রিলে রেসে প্রথম স্থান অর্জন করে। এ বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া স্পেশাল অলিম্পিক ওয়ার্ল্ড উইন্টার গেমস-২০১৭ মিষ্টি’র নেতৃত্বে অনুর্ধ ১৬ হকি দল অসাধারন ক্রীড়া নৈপূর্ণ্য প্রদর্শন করে।

অস্ট্রিয়াতে হওয়া ওই আসরে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করে বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৬ হকি দল। অনুর্ধ ১৬ হকি দলের জন্য জুনিয়ার এ্যাথলেটদের মধ্য থেকে প্রতিভাবান মেয়েদেকে বাছাই করে ১৩ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। এই দলের নেতৃত্বের ভার দেওয়া হয় মিষ্টিকে। তার নেতৃত্বে অস্ট্রিয়াতে স্পেশাল অলিম্পিক ওয়ার্ল্ড উইন্টার গেমস-২০১৭ অংশগ্রহণ করে চাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণপদক জয় করে বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৬ হকি দল।

গত ১৬ মার্চ অস্ট্রিয়াতে হয়ে যাওয়া স্পেশাল অলিম্পিক ওয়ার্ল্ড উইন্টার গেমস ২০১৭-তে ১১৭টি দেশ অংশ নেয় এবং এতে ১৪ হাজার খেলোয়াড়দের মধ্যে ৭ হাজার নারী ৭ হাজার পুরুষ অংশগ্রহণ করে।

ট্যাগ: