banglanewspaper

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে শাহী আমান্না শোভাকে অপহরণকারী সোহেল রানার বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। অপহৃত শিক্ষার্থী ও তার সাবেক স্বামীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। 

শুক্রবার রাতে নজিপুর এলাকার স্থানীয় পুলিশ অপহরণকারীর বাবা জয়নাল আবেদিনকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলার (সরদারপাড়া) বাসিন্দা। 

গত ডিসেম্বরে সোহেল ও শোভা বিয়ে করেন। আবার দুই মাস আগে তাদের ডিভোর্সও হয়। শুক্রবার সকালে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বান্ধবীর সঙ্গে তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হন শোভা। আগে থেকেই রাস্তায় কয়েকজনসহ মাইক্রো নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন সোহেল। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শোভাকে তুলে নিয়ে যায় সোহেল ও তার সহযোগীরা।

এ ঘটনায় উপাচার্যের বাসভবন ঘিরে শোভাকে উদ্ধার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দাবি জানায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৪টা থেকে ডাকা এ আন্দোলন প্রশাসনের আশ^স্থতায় সন্ধা ৭টার দিকে শেষ হয়। তবে শোভার সন্ধান চেয়ে সকাল ৯ টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। 

এদিকে সন্ধ্যায় সোহেলসহ কয়েকজনকে আসামী করে মতিহার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন শোভার বাবা আমজাদ হোসেন। তার বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকায়। 

আটকের বিষয়ে প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, ‘অপহরণকারীর বাবা আইনজীবী জয়নাল আবেদিনকে নওগাঁর নজিপুর এলাকার স্থানীয় পুলিশ আটক করেছে। এছাড়া অপহরণকারী সোহেল রানা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে বলে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাকে আটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকা থেকেই পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা করছি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী যেহেতু পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে পরবর্তী সময়ে আলাদাভাবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁর পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে ওই ছেলের বাবা আইনজীবী জয়নাল আবেদিনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আমাদের হেফাজতে রয়েছেন, মতিহার থানা আসলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

মেয়ের বাবা (আমজাদ হোসেন) সোহেল রানাসহ কয়েকজনের নামে মামলা করেছে বলে জানিয়েছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান।

তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, মামলা একটি হয়েছে। আটককৃতকে আনতে পত্নীতলা থানায় লোক পাঠানো হয়েছে। তবে কয়জনকে আসামি করা হয়েছে সেটা এখনই বলা যাবে না।’

ট্যাগ: