banglanewspaper

আব্দুল হাকিম, নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনায় স্বামী কর্তৃক গৃহবধুকে তালাক দেওয়ার পর বিয়ের দাবিতে দুইদিন ধরে প্রেমিকের বাড়ীতে অনশন করছে সীমা নামের এক গৃহবধূ।

পুলিশ ও সরেজমিন সুত্রে জানাযায়, শনিবার উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর থেকে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার রাতে বেড়গঙ্গারামপুরে সীমার স্বামী সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর বাড়ী না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী উজ্জল তার বাড়ীতে যায়। ধর্ষনের চেষ্টাকালে সীমার ডাক চিৎকারে দেবর খোরশেদ গিয়ে উজ্জলকে আটকাতে চেষ্টা করে। এসময় গেট খুলে দিলে প্রেমিক উজ্জলের পরিবারের লোকজন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই সীমার স্বামী রাজদুল তাকে তালাক দেয়। ভোরে প্রেমিক উজ্জলের বাড়ীতে আসলে উজ্জলের মা-বাবা তাকে মারপিট করে বাড়ীর বাহিরে বেড় করে দিয়ে গেটে তালা দিয়ে বাড়ীর সবাই পালিয়ে যায়।

এঘটনা থানা পুলিশ জানতে পেরে শনিবার সীমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সীমা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের শাহীনের মেয়ে ও বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামের রাজদুলের স্বী। উজ্জল প্রতিবেশী ভাদু শাহ’র ছেলে। সে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারী কলেজে অনার্স পড়ছে বলে জানা গেছে। লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, দশ বছর পুর্বে রাজদুল ও সীমার বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পরকীয় প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। তাদের সম্পর্কের বিষয়ে এলাকার মানুষ জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। ঘটনার দিন মেয়েটির ঘরে উজ্জলকে আটকালেও তাদের লোকজন জোড়পুর্বক বের করে নিয়ে যায়। তার পরিবারের লোকজন উজ্জলকে পালাতে সহযোগিতা করে।

সীমা খাতুন জানান, বিভিন্ন অযুহাতে তাদের বাড়ীতে যাতায়াত করতো উজ্জল। ঘটনার দিন রাতে উজ্জল তার বাড়ীতে আসে। প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে জোড়পুর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। এঘটনায় তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে। উজ্জল বিয়ে না করলে মৃত্যু ছাড়া তার কোন উপায় নেই বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় লম্পট প্রেমিক উজ্জলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেয়েটিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ট্যাগ: