banglanewspaper

ভেবেছিলাম চুপ থাকবো কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মাধ্যমিক পর্যায়ে কমিটি গঠনের সীদ্ধান্ত নিয়ে সুশীল সমাজ, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীশক্তি এবং ছদ্দবেশী নব্য আওয়ামীপ্রেমীদের মধ্যে যেভাবে চুলকানি তথা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে তাতে আর চুপ থাকতে পারলাম না।

মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি কেন দরকার সে বিষয়ে আলোকপাতের আগে এটা নিয়ে যাদের চুলকানি তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা-  স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী জংগিবাদী অপশক্তি ইসলামী ছাত্রশিবির যখন মাধ্যমিক কিংবা প্রাইমারী না কিন্ডারগার্ডেন লেভেল এর কোমলমতি শীক্ষার্থীদের কিশোরকন্ঠ বিতরণের নামে কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাসের শিক্ষা দিত, বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জংগিবাদের ট্রেনিং দিত, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের দামে কেনা বাঙালী জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অন্তরালে পাকিপ্রেমের বীজ বপন করতো তখন তো আপনাদের দেশপ্রেম জাগ্রত হয় নাই, তখন তো আপনাদের বিবেক বোধ জাগ্রত হয় নাই, তখন তো আপনাদের কলমের শক্তি জাগ্রত হয় নাই।

আজ যখন ছাত্রলীগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি শিবিরের ব্রেইন ওয়াশের হাত থেকে রক্ষা করতে, ইসলামের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে জংগিবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু তুলে ধরা না তাদের সেই সঠিক ইতিহাস চর্চার সুযোগ সৃস্টি করার মানসে মাধ্যমিক পর্যায়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহন করছে তখনি আপনাদের চুলকানি শুরু হয়েছে, কিন্তু কেন এই চুলকানি সেটা আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করি এবং ধারন করি তারা খুব ভালভাবেই জানি।

অন্ধকারকে অন্ধকার দিয়ে গ্রাস করা সম্ভব না। অন্ধকারকে গ্রাস করতে হলে আলোর প্রয়োজন হয়। ছাত্রলীগের এই কার্যক্রমই হবে সেই আলোর মশাল। একটু ব্যাখ্যা করে বলি কিছুদিন আগে আমরা দেখেছিলাম বাংলাদেশে ভয়াবহভাবে জংগিবাদের বিস্তার ঘটেছিল। সরকার যখন এর পিছনের কারন উৎঘাটন করল তখন ভয়াবহ তথ্য বের হয়ে আসল। জংগিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়েছে রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনখ্যাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কওমি মাদ্রাসাগুলো।

একটু খেয়াল করে লক্ষ্য করুন জংগিবাদীরা এই প্রতিষ্ঠান গুলোকে টার্গেট করার পিছনের কারন এখানে ছাত্ররাজনীতি নেই মানে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক তৎপরতা নেই তাই ছাত্রলীগের অনুপস্থিতির সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জংগিবাদের শিকড় গেড়েছে নির্ভিগ্নে এবং সেভজোন হিসাবে ব্যবহার করে জংগিবাদের বিস্তার ঘটিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জংগিবাদী রাষ্ট্র হিসাবে তুলার ধরার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্রলীগ এবং আমাদের দেশপ্রেমিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তাই স্কুল পর্যায়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জংগিবাদের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল এই একুশটি বছর এই বাংলাদেশে ইতিহাস বিকৃতির যে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছিল সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়কে চিরতরে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে আমাদের এমন একটি প্রজন্ম প্রয়োজন যারা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, শিশু মুজিব থেকে কিশোর মুজিব, কিশোর মুজিব থেকে যুবক মুজিব, যুবক মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু মুজিব, বঙ্গবন্ধু মুজিব থেকে জাতির জনক মুজিব হয়ে ওঠার প্রকৃত ইতিহাস জেনে সঠিক ইতিহাস জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে জাতির গঠনের হাল ধরবে। 

আর সেক্ষেত্রে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি মনেকরি। একটি ছেলে যখন স্কুল থেকেই ছাত্রলীগের পতাকাতলে আসার সুযোগ পাবে তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ সেই ছেলেটিকে কেউ কখনো ব্রেইন ওয়াস করে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। সমালোচনার জন্য শুধু সমালোচনা নয়, আসুন গঠনমূলক সমালোচনা করে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে শান্তির পতাকা উড়িয়ে প্রগতির পথে এগিয়ে যাই এক সাথে।

 

ইমদাদুল হক সোহাগ 
সাবেক সহ-সভাপতি, 
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper প্রসঙ্গ ছাত্রলীগ স্কুল কমিটি