banglanewspaper

বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আজ রবিবার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। আজ হাইকোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য রাখা হয়েছে।

এ মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য ২০১৫ সালে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। গত ১৩ এপ্রিল উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। দীর্ঘ ৩৭০ কার্যদিবস শুনানি হয় হাইকোর্টে। গত ৯ নবেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ২৫ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল। আসামিপক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এসএম শাহজাহান ও আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৫২ আসামির ফাঁসির রায় দেয় আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়া বিডিআরের উপ সহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ (৫৫) বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ মামলার সাড়ে আটশ আসামির মধ্যে জীবিত আছেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নেতা তোরাব আলীকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত। তাদের দুজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

উল্লেখ্য, আসামির সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য গত ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

ট্যাগ: Banglanewspaper বিডিআর হত্যা মামলার রায় মৃত্যুদণ্ড