banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট : এ্যাডভেঞ্চারের নেশা আছে, কিন্তু বেড়ানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টাকা নেই- বেশিরভাগ ভ্রমণপ্রিয়দের প্রধান সমস্যা তো এটাই। তারওপর যদি হন ছাত্র-ছাত্রী, তাহলে তো কথাই নেই, পরিবারের অনুমতি যোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সমস্যা যদি আপনারও থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যই। কিছু টিপস মেনে চললে এই ঝামেলা থেকে মুক্তি খুব কঠিন কিছু নয়। জেনে নিন কম খরচ করে ভ্রমণ করার কিছু টিপস।

একাধিক সংগঠনের হয়ে স্বেচ্ছা সেবা করা শুরু করুন: 

ছাত্রজীবনে সেবামূলক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে প্রায় সকলেই যুক্ত থাকে। আপনার যদি ভ্রমণের নেশা থাকে তাহলে বুদ্ধি খাটিয়ে এমন সব সংগঠনে যোগ দিন যেগুলো সারাদেশ জুড়ে কাজ করে। এমনকি চাইলে আপনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করে এমন সগঠনেও যোগ দিতে পারেন। এখানে আপনি দুই ধরনের সুবিধা পাবেন। এক, কোনও সগঠনের সাথে যদি আপনি কোথাও যেতে চান আপনার বাসা থেকে অনুমতি পাওয়া সহজ হবে। দুই, যেহেতু আপনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাবেন আপনার ভ্রমণের একটা বড় খরচ আপনার সংগঠন বহন করবে। 

নিজেকে অবশ্যই যোগ্য করে তুলুন: 

আপনি শুধু সংগঠনের সাথে যুক্ত হলেই তো আর হবে না। আপনাকে অবশ্যই বাকিদের থেকে আলাদা হতে হবে। কারণ সংগঠন তো অনেকেই করে। তাদের মধ্য থেকে আপনি কেন আলাদা? কেন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাগুলো আপনাকেই দিবে? এই প্রশ্নগুলো করুন নিজেকে। তারপর নিজের যোগ্যতাকে বাড়ানোর কাজে লেগে পড়ুন। 

বন্ধু বাড়ান:

এই ফেইসবুকের যুগে বন্ধু খুঁজে পাওয়া কোনও ব্যাপারই না। আপনার নিজের যত বন্ধু থাকবে আপনি ভ্রমণে ততো বেশি সুবিধা পাবেন। যেমনঃ দলবল নিয়ে ভ্রমণে যেতে পারলে খরচ অনেক কমানো যায়। বেশি বেশি বন্ধুরা সাথে থাকলে বাসা থাকে অন্তত একা যেতে হচ্ছে না এই বলেও অনুমতি নেয়া যায়। আবার আপনি এমন কোথাও গেলেন যেখানে আপনার বন্ধু আছে সেখানে আপনার থাকা, খাওয়া, গাইডসহ আরও অনেক খরচ বেঁচে যেতে পারে।

সুবিধা শেয়ার করুন:

পর্যটন এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও সেবা থাকে। যেমন একটি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া যদি ১ হাজার টাকা হয় হয়তো ডাবল রুমের ভাড়া হবে ১২শ, মানে জনপ্রিতি ৬শ টাকা।  আবার যদি আপনি কক্সবাজার ভ্রমণ করেন সেখানে ডরমেটরী আছে পর্যটন কর্পোরেশন এর তার সিটভাড়া ৩০০ টাকা। ছাত্রদের জন্য যা খুব সাশ্রয়ী। কাছের বন্ধুরা মিলে ভ্রমণ করলে খাবারও শেয়ার করতে পারেন। 

ভ্রমণকারী দলগুলোর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন: 

যারা সাধারণত সব সময় ভ্রমণ করে সেই সব দলের সাথে ভ্রমণ করুন। আপনার ভ্রমণ খরচ কমে আসবে। কারণ কোথায় কত কম খরচে ভ্রমণ করা যায় সে বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার অবশ্যই আপনার তুলনায় বেশি।

বিকল্প থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করুন:

হোটেল-মোটেল বা রিসোর্টে থাকার কথা ছাত্রজীবনে তো ভাবাই যায় না। তাই যে কোনো জায়গায় ভ্রমণের আগে সেইখানে কোথায় ছাত্রাবাস বা মেস রয়েছে খোঁজ নিন। সম্ভব হলে সেসব জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করুন। কিছু টাকা জমিয়ে একটা তাবুও কিনে নিতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে আপনার থাকার চিন্তা থেকে আপনি একপ্রকার মুক্ত থাকতে পারবেন।

সিজন আসার আগে বা পরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন:

পিক সিজনে খাবার,হোটেল, যাতায়াত ভাড়া সব কিছুই বেশি থাকে। তাই, অবশ্যই পিক সিজনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। এই সময় গুলোকে এড়িয়ে চলতে পারলে আপনি প্রায় বিনা পরিশ্রমে ৫০% খরচ বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন।

ছুটির দিন এড়িয়ে চলুন:

ছুটির দিনে সব জায়গায় প্রচণ্ড ভিড় থাকে। এই সময় আপনার ভ্রমণের লক্ষ্য আর আনন্দ দু'টোই নষ্ট হবে। পাশাপাশি যত বেশি ভিড় হবে আপনার প্রতিটি জিনিসের দাম ততো বেশি হবে। তাই অবশ্যই ছুটির দিন এড়িয়ে চলুন। 

দরদাম করুন:

দেশে বিদেশে যেইখানেই যাবেন যদি একদরে বিক্রির ট্যাগ না থাকে তাহলে অবশ্যই দামাদামি করবেন। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার আগে অবশ্যই স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রতিটি ভাড়া আর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম জেনে নিন। আর দামাদামি করার ক্ষেত্রে আপনি যে ছাত্র সেটা জানাতে ভুলবেন না। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্রদের জন্য বিভিন্ন অফার থাকে। এতে দামাদামি করে আপনি কম দামে সব কিছু কিনতে পারবেন। আবার বিভিন্ন অফারের সুবিধায় আপনি আরও কিছু পয়সা বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন। 

গণ পরিবহনে ভ্রমণ করুন:

প্রায় সকল ক্ষেত্রেই গণ পরিবহনের ভাড়া আর খরচ দু'টোই কম। তাই বাসে না গিয়ে ট্রেনে অথবা অন্যান্য গণ পরিবহনে ভ্রমণে করুণ করে খরচ কমানো যায়। এমনকি গণ  পরিবহনের ক্ষেত্রেও অবশ্যই সবচাইতে কম কত খরচ করে আপনি ভ্রমণ করতে পারেন সেই দিকে নজর রাখুন। যেমন: লঞ্চের কেবিন ভাড়া খরচ না করে যদি আপনি ডেকে ভ্রমণ করেন তাহলে আপনার ভ্রমণ খরচ অনেকাংশেই কমে আসবে।

সবকিছু আগেই বুকিং করে নিন:

আপনি আপনার ভ্রমণের আগে যদি বুকিং সেরে নিতে পারেন তাহলে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাড়তি খরচ হবার ঝামেলা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি আপনি যদি বিভিন্ন অফারের সময় বুকিং করে রাখতে পারেন তাহলে আপনি অনেক খরচ বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন।

সরকারী রেস্ট হাউস ব্যবহার করুন:

আপনি জানেন যে, বেসরকারী হোটেল মোটেল এর চেয়ে সরকারী গেষ্টহাউস ও বাংলোগুলোতে কম ভাড়ায় থাকা যায়। কোথায় ১০০ বা ২০০ টাকায়ও থাকতে পারবেন একরুমে। এজন্য অবশ্যই আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং দিয়ে যাবেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারী রেফ দরকার হয়। যেমন আপনি যদি রেলওয়ের বাংলাতে থাকতে চান চট্টগ্রামে সেখানে হয়তো রেলওয়ের কারো রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। কখনো আগে থেকে যোগাযোগ না করে সরকারী হল পাবার আশা করবেন না।

কমিউনিটি ট্যুরিজম এর সাহায্য নিতে পারেন:

কম্যুউনিটি ট্যুরিজম হলো স্থাণীয় লোকজনের ট্যুরিজম সেবা। যেমন আপনি যদি সাজেক যেতে চান। সেখানে প্রধান হোটেলটির ভাড়া যেখানে প্রতিরাত ৫ হাজার টাকা সেখানে আপনি কোনো আদিবাসী বা উপজাতির বাসায় থাকলে আপনার ভাড়া পড়তে পারে ২০০ টাকা। না ভয় নেই আদিবাসীরা ঘর ভাড়া দেয় তারা পর্যটকের উপযুক্ত করেই তাদের ঘরগুলো তৈরী করে রাখে। এবং তাদের ঘরে খাবারের ব্যবস্থাও থাকে।

খরচ পোষানোর চেষ্টা করুন:

আপনি চাইলে সফরকে বিভিন্নভাবে পোষাতে পারেন। যেমন আপনি সুন্দরবন বেড়াতে গেলেন সেখান থেকে ৩০০ টাকা দামে ১০ কেজী মধু ‍নিয়ে আসলেন। প্রতি কেজীতে ১০০ টাকা লাভ করে অফিসের কলিগ ও বন্ধুবান্ধবদের মাঝে বিক্রি করলেন, দেখাগেলো আপনি খরচের একটা অংশ সেখান থেকে তুলে নিলেন। তবে এক্ষেত্রে বিক্রি করতে পারবেন কিনা বা দাম তুলতে পারবেন কিনা সেটা আগেই ভেবে নেবেন।

ট্যাগ: Banglanewspaper ভ্রমণ টিপস