banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট : মামলার অস্তিত্ব নেই। পরোয়ানাও ভুয়া। তারপরও প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে কারাগারে বন্দি ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ।

ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারকের জাল সইয়ের ওই পরোয়ানা পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই তাদের কাছে। ৫ দিন আগে ওই বৃদ্ধের মুক্তির আদেশ হলেও কারাগারে নথি না পৌঁছানোয় ছাড়া পাননি তিনি।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি বলছেন, এ সব ঘটনায় একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে। 

ঘটনার শুরু গত ২৭ নভেম্বর। প্রতারণার একটি মামলায় কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তারে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের পরোয়ানা পায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। পরদিন পাঠানো হয় কারাগারে। এরপর মামলার খোঁজ নিতে ঢাকার আদালতে আসেন তার স্বজনরা। কিন্তু সেখানে তারা মুখোমুখি হন আরেক বিপত্তির। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকতা কাঞ্চন মিয়ার জামিন করাতে পারবেন, এমন কথা বলে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন এক দালাল। সরল বিশ্বাসে তা দিয়েও দেন তারা। 

পরে মামলাটি শুনানির জন্য তোলা হলে, সন্দেহ হয় ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের। খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হন, বিচারকের সই জাল করে এ পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে, এমনকী মামলাটিও ভুয়া। এরপর গত ৪ ডিসেম্বর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে কাঞ্চন মিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নথি কারাগারে না পৌঁছানোয় এখন মুক্তি মেলেনি তার।

এমন ঘটনায় হতবাক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। ঢাকার আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিশোরগঞ্জ আদালতে পৌঁছানোর পর, কেন ঢাকায় যোগাযোগ করা হলো না এমন প্রশ্নে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। 

তবে এরই মধ্যে কাঞ্চন মিয়ার পরিবার সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত বরাবর চিঠি পাঠিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকতাসহ দায়ীদের শাস্তি চেয়েছেন। এমন হয়রানিমূলক ভুয়া মামলায় আর যেন ভোগান্তির শিকার না হতে হয়, আর কোনো নিরীহ মানুষকে চেয়েছেন সেই প্রতিকারও। 

সূত্র : চ্যানেল২৪

ট্যাগ: Banglanewspaper ভুয়া কারাগার বন্দি বৃদ্ধ কিশোরগঞ্জ