banglanewspaper

আব্দুর রহিম, রাজশাহী: ‘শুয়োরের বাচ্চা সাংবাদিকতা করবি আর বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর ছবি রাখবিনা?’ এই বলেই কিল, ঘুশি আর লাত্থি মারতে থাকে সাংবদিকদের। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি (আরসিআরইউ) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় রাজশাহীর স্থানীয় তিন সাংবাদিককে করে কলেজ ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ।

এসময় হামলাকারীরা কার্যালয়টিতে ভাংচুর শেষে তালা ঝুলিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকার অজুহাতে এ হামলা চালান কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসিক দত্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক রতন আলীর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী।

লাঞ্ছনার শিকার তিন সাংবাদিক হলেন- আরসিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সানশাইনের স্টাফ রিপোর্টার মীম ওবাইদুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক ও পদ্মা নিউজের সাব-এডিটর বাবর মাহমুদ এবং নির্বাহী সদস্য ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের স্টাফ রিপোর্টার মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎ।

ওই সময় সেখানে কলেজ ডিজিটালাইজেশনে জাতীয় পুরষ্কার পাওয়ায় অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা: হবিবুর রহমানকে সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি চলছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েই পার পেয়েছেন হামলাকারীরা। দুপুরেই দুপক্ষকে নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠকে বিষয়টি নিস্পত্তি করেন অধ্যক্ষ।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে নানান অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের এ গ্রুপটি। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা কেউই। বেপরোয়া এ গ্রুপটি বিতর্কিত কর্মকা-ে নিজ সংগঠনেই সমালোচিত।

রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা জানান, রোববার সকালে কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসিক দত্ত কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে আরসিআরইউ কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তিনি জানতে চান, কেন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙানো নেই। তারা ছবিগুলো টাঙাতে কড়া বার্তা দিয়ে আসেন।

পরে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবারো আরসিআরইউ কার্যালয়ে যান ছাত্রলীগের ওই গ্রুপটি। ওই সময় সাংবাদিকরা অধ্যক্ষকে সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছবি না দেখে সাংবাদিকদের পর চড়াও হন। অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানালে ছাত্রলীগের নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সাংবাদিকরা সেই তালা খোলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গিয়ে কার্যালয়ে তা-ব চালান। সাধারণ সম্পাদক মীম ওবাইদুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক বাবর মাহমুদ ও নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। এসময় অবস্থানরত নারী সাংবাদিকদের অশ্লিল ভাষায় গালাগাল দেন হামলাকারীরা। ভাংচুর করেন সেখানকার আসবাবপত্রও। পরে তাদের বের করে দিয়ে আবারো কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তখনই সাংবাদিকরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান সাংবাদিকদের নিেেয় আরসিআরইউ কার্যালয়ের তালা খোলেন। ডেকে পাঠান ছাত্রলীগের ওই গ্রুপটিকে। দীর্ঘ রুদ্ধদার বৈঠকে এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে ক্ষমা চান হামলাকারীরা। তবে ওই বৈঠকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সাংবাদিকরা।

এ বিষয়ে আরসিআরইউ সভাপতি শামসুননাহার সুইটি জানান, নিরপেক্ষতার স্বার্থেই কার্যালয়ে তারা কোন ছবিই টাঙাননি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শুরু থেকেই। তবে কার্যালয়ে এ হামলা পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোরও দাবি জানান সভাপতি।

জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, কলেজের শৃংখলা রক্ষায় দুপক্ষকে নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের যে দাবি তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনা অনাকাঙ্খিত বলে উল্লেখ করেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রিপোর্টার্স ইউনিটি, রাবি প্রেসক্লাব ও রাবি সাংবাদিক সমিতি।

ট্যাগ: Banglanewspaper সাংবাদিকতা বঙ্গবন্ধু