banglanewspaper

ভারতের এক আদিবাসী মেলায় তিরন্দাজি, কবাডি, নাচ গানের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি চুমু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে দর্শকদের উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ ছিলো না। এতে অংশ নিয়েছেন মোট ১৮ জোড়া প্রতিযোগী।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গে ওই অভিনব প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যে। পাকুড়ের লিট্টিপাড়ার ডুমারিয়া গ্রামের আদিবাসী মেলার অভিনব আইটেম ছিলো চুম্বন প্রতিযোগিতা। তিন দিনের মেলার সেরা আকর্ষণ। মেলার শেষ প্রান্তের ঘেরা জায়গাটাই প্রতিযোগিতার স্থল। তার বাইরে ভিড় উপচে পড়েছে। রেফারির বাঁশি বাজতেই শুরু হল হাততালির ঝড়। 

মেলার মূল উদ্যোক্তা লিট্টিপাড়ার জেএমএম বিধায়ক সাইমন মারান্ডি জানান, ‘ভেবেছিলাম কেউই শেষ পর্যন্ত এই ‘চুম্বন প্রতিযোগিতা’অংশ নেবেন না। তাই মেলার লিফলেটে এই প্রতিযোগিতার উল্লেখ করা হয়নি। সোমবার বিকেলে মেলায় মুখে মুখে এই প্রতিযোগিতার কথা প্রচার করা হয়। দেখা যায় ১৮ জোড়া প্রতিযোগী নাম লিখিয়েছেন।’

প্রতিযোগিতার শর্ত ছিল একটাই, নারী-পুরুষের এই জোড়কে স্বামী-স্ত্রী হতে হবে। একই সঙ্গে চুম্বনরত অবস্থায় তাদের স্টার্টিং লাইন থেকে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছতে হবে। যারা আগে পৌঁছবেন তারাই বিজয়ী হবেন। প্রথম পুরস্কার ৯০০ টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার যথাক্রমে ৭০০ ও ৫০০ টাকা।

সোমবার স্থানীয় সময় রাত আটটা নাগাদ মেলায় চুম্বন প্রতিযোগিতা শুরু হতেই হাততালির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দর্শকদের ভিডিও রেকর্ডিংও। দর্শকরা হাততালি দিয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে থাকেন। প্রাথমিক জড়তা দ্রুত কাটিয়ে চুম্বনরত অবস্থায় তাঁরা এগোতে থাকেন ফিনিশিং লাইনের দিকে। প্রতিযোগিতার শেষে এক প্রতিযোগী লক্ষ্মণ মারান্ডি বলেন, ‘প্রথমে একটু লজ্জা লাগছিল। কিন্তু এটাকে খেলা হিসেবে নেওয়ার পরে জড়তা কেটে গেল।’

শুধু নব বিবাহিত আদিবাসী দম্পতিই নয়, প্রৌঢ় দম্পতিরাও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

তবে এই প্রতিযোগিতা ঘিরে বির্তক শুরু হয়েছে। পাকুরের জেলা বিজেপি সম্পাদক দেবীধান টু়ডু বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিযোগিতা আদিবাসী সংস্কৃতির বিরোধী। ওই বিধায়ক তাঁর এলাকায় আদিবাসীদের নূন্যতম পরিষেবাটুকুও দিতে পারেননি। সে দিক থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এখন চমক দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

তবে এই বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছেন, সাইমন মারান্ডি। তার মতে, এই প্রতিযোগিতা আদিবাসীদের দাম্পত্য বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। সূত্র: আনন্দবাজার।

ট্যাগ: Banglanewspaper চুমু ভারত