banglanewspaper

সিরাজুম সালেকীন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে অনার্স (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি ফি বৃদ্ধি করায় বিপাকে পড়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন, মানববন্ধন শুরু হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রশাসন বলছে দেশের সকল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি’র সাথে সামাঞ্জস্য করতেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। 

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে বা পেজে চলছে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়। 

এস কে রেজা নামে একজন লেখেন, "ই.বি.ভর্তি ফি বৃদ্ধি। এক অসহায় বাবার আর্তনাদ। ছাত্রের জীবনে অভিশাপ।"

তিনি ভেতরে বিস্তারিত লেখেন, হতদরিদ্র কৃষক বাবার স্বপ্ন, ছেলে কে মানুষ করা। ছেলেকে যেন তার মত অবহেলিত না হতে হয় সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। তাইতো দৃঢ় পণ তার, ছেলেকে উচ্ছ শিক্ষায় শিক্ষিত করা। ছেলেও বাবার ডাকে দিল সাড়া। ভর্তি হলো ছায়া ঘেরা, চির সবুজে মাড়ানো দক্ষিণাচল তথা দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় "এ। নতুন এক আশার বীজ বুনে এগিয়ে চলেছে দূরন্ত গতিতে। তবু কখনো কখনো কালবৈশাখী ঝড়ের ন্যায় কিছু ঘটনা বাবার অন্তরে দাগা দিয়ে যায়। সেশনজটের প্রতিটা ক্ষন যেন তার বৃদ্ধ বাবার একেক টা দীর্ঘশ্বাস। হয়তো স্কুলের গন্ডি ও শেষ করেননি তিনি। তাইতো যখনই সেমিস্টার ফাইনাল, ইয়ার ফাইনাল, ভর্তি হবার জন্য বাবার সরনাপন্ন হতে হয় ছেলেকে তখনি তিনি বলেন "আমাদের বোকা বানাচছ, পরীক্ষার ফি, ভর্তি ফি কখনো এত হয় নাকি " ছেলেটি লজ্জায় হোক আর কষ্টে হোক বাবাকে আর কিছুই বলতে পারে না। কিছু দিন পর বাবা ছেলের যৌথ প্রয়াসে সব ঠিক ঠাক মত চলে। কখনো কখনো আবার বাবার মুখে হাসির ফোয়ারা ফোটে যখন ছেলের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যার, প্রশাসনের মনোমুগ্ধকর বানী শোনে।

তিনি আরও লেখেন, তাইতো ছেলের কথামতো আশায় বুক বেধে বাড়ির একমাত্র আদরের ছোট মেয়েকে ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বিন্দু মাত্র ও দ্বিধা বোধ করেননি। হাজার কষ্টে থেকেও তার যেন সুখের অন্ত নেই। কিন্তু যখনই শুনতে পেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি বহুমাত্রাই বৃদ্ধি পেয়েছে তখনই বাবার হাসিমাখা মুখটা যেন বিভীশিখাময় কালো মেঘে ঢেকে গেছে। প্রতি উত্তরে তিনি শুধু দুটো কথায় বলেন- ১. দেবার মতো যা কিছু ছিল সবই দিয়েছি, এখন শুধু প্রানটাই বাকি আছে। ২. জগতের মানুষ গুলো কেন আমার সাথে এমন করে। যখনই কাউকে বিশ্বাস করেছি, ভালোবেসেছি বিনিময়ে শুধু কষ্ট ই পেয়েছি। ছেলেটি এখন দোটানায়... সে নিজের জন্যই বা কি করবে আর তার বোনের জন্যই বা কি করতে পারে। তারা কি আদৌ অসহায় বাবার স্বপ্ন পূরন করতে পারবে।

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রাশিদ আসকারী এরই মধ্যে যে সুনাম কুড়িয়েছেন। তার সবই ম্লান করে দিচ্ছে হঠকারী ভর্তি ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে বলে মনে করেন অনেকে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রনালয় পর্যন্ত সকল দপ্তরে গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেছে ভিসি আসকারীর নেতৃত্ব।

ভর্তি ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রবিবার বৃষ্টিতে ভিজে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রমৈত্রী। বেলা দুইটা পর্যন্ত প্রশাসন ভবন চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রমৈত্রীর আহ্বায়ক মোর্শেদ হাবিবের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে ‘দরিদ্র মেধাবীদের শিক্ষার সুযোগ দিন, দিতে হবে’ ‘অতিরিক্ত ফি বাতিল করুন, করতে হবে’, ‘তেল নুন পেয়াজের মত শিক্ষা কোনো পণ্য নয়’, এরকম প্রতিবাদীমূলক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়।

এদিকে আজ মঙ্গলবার ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইবির ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বর্ধিত ভর্তি ফি প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ আল্টিমেটাম দেয় তারা।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মানবিক, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন ও বিজ্ঞান অনুষভূক্ত বিভাগসমূহে মোট ৩ হাজার দুই শত টাকা থেকে ৫ হাজার ৭ শত টাকার মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যেত। তবে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে মানবিক ও আইন অনুষদভূক্ত বিভাগ সমূহে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মোট ১১ হাজার ৮ শত ১৫ টাকা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভূক্ত বিভাগ সমূহে মোট ১২ হাজার ৪শত ১৫ টাকা এবং বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত বিভাগ সমূহে মোট ১৩ হাজার ৩ শত ১৫ টাকা লাগবে।

ট্যাগ: Banglanewspaper ইবি ভিসি