banglanewspaper

নিজস্ব রিপোর্ট: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।

শিরোনাম দেখে অবাক হচ্ছেন! হা, অবাক হওয়ারই মতো ঘটনা। এবার ঢাকা উত্তর সিটির মেয়দ হিসেবে দেখতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার ভক্তরা ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলেছেন। ইভেন্টির নাম দেওয়া হয়েছে- 'বেগম খালেদা জিয়া কে ঢাকা উত্তরের মেয়র হিসেবে দেখতে চাই'। ফেসবুকের সেই ইভেনটিতে সাড়ে চার হাজারের বেশি পছন্দ করেছেন এবং ৪৭৪ জন গোয়িং দিয়েছেন। 

এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে তথ্য উপাত্তসহ নির্বাচন সংক্রান্ত ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। তবে কবে নাগাদ এ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। জানা গেছে, সিইসি নির্বাচন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে অংশ নিতে বর্তমানে শ্রীলংকায় রয়েছেন। দেশে ফিরলে এ মাসেই তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে শুধু মেয়র পদে উপ-নির্বাচন হবে, না বাকি ১৮ ওয়ার্ডের একসঙ্গে নির্বাচন তবে এ বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে ধারণা পরিষ্কার করা হয়নি। সিটিতে যোগ হওয়া নতুন ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ইসি।

 

 

এদিকে ফেসবুকের ওই ইভেনটিতে প্রচুর ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন। 

মোহাম্মদ নুর হাসান নামের একজন লিখেছেন- দাবী মোদের একটাই, বেগম জিয়াকে "মেয়র"চাই....

Ononto Akash নামের একজন লিখেছেন- 
নয় শংকা নয় ভয়
হবেই হবে জয়!

হাওয়া ভবনের হাওয়ায় ভর করে
খালেদা আসবে ফিরে মেয়রের বেশে!!

Md Mithun নামের একজন লিখেছেন- Sobai Basi kora Share Like & Comment korun Jano amadr Priyo natree Bagom Khalada Jeya Dhaka uttor city corporation ar mayor nirbachon korta paran

Amitav Barua নামের একজন লিখেছেন- অলিতে গলিতে পোস্টার দেখতে চাই,
বাদ যাবে না একটা খাম্বাও।

Shajjad Hossain Sohag নামের একজন লিখেছেন- ঈদের পরে তাকে এই দ্বায়িত্ব দেওয়া হবে!
কোন ঈদ তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে!

সাঈদ বেলাল নামের একজন লিখেছেন- চক্রান্ত করে লাভ নাই,জাতীয় নির্বাচন দিয়ে দেখো।

মেহেদী হাসান অর্পণ নামের একজন লিখেছেন- একজন যোগ্য লোককে এভাবে বসিয়ে রাখা রীতিমতো অন্যায়! কী করে সম্ভব? 
সময় এসেছে, আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। ম্যাডামকে এভাবে "পুতুলের" মতো বসিয়ে রাখা আর একদমই উচিত হবেনা! তাই আপোসহীন ম্যাডামের সাথে আপোস করে তাকে মেয়র পদে আসীন করতে ইভেন্টের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করুন।
আপনার ফ্রেন্ডকে এক্ষুনি ইনভাইট করুন। 
এমন "ঐতিহাসিক আন্দোলনের" অংশ থেকে আপনাকে, আপনার বন্ধুকে বঞ্চিত করবেননা! ওমর খাসীর দোহাই লাগে !!

 

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৪ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক গেজেট বিজ্ঞপিতে ১ ডিসেম্বর থেকে এ সিটির মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ সিটিতে উপ-নির্বাচন দিতে হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ সিটিতে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জানা গেছে নির্ধারিত সময়ের আগেই এ সিটিতে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় ইসি। ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন আয়োজনের চিঠিপত্র পেয়েছি। তথ্য-উপাত্তসহ নির্বাচন সংক্রান্ত ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়েছেন সিইসি। তবে কবে কখন নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে সিইসি দেশে ফিরলে চূড়ান্ত হবে। জানা গেছে, গত সোমবার ইসির বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা এ সিটি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণার আগে তথ্য-উপাত্ত সংক্রান্ত যাবতীয় ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা দিয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। আগামী শুক্রবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে ফিরেই ঢাকা উত্তর সিটিতে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সিটি করপোরেশনে ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট হয়। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ দুই সিটি করপোরেশনের পার্শ্ববর্তী ৮টি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত করে গত ২৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে। এতে ঢাকা উত্তরের সঙ্গে নতুন করে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়। নবগঠিত এলাকা নিয়ে এ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা এখন ৫৪টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৮টি।

২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। লন্ডনে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এরপর গত ৪ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ১ ডিসেম্বর থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন), আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৫ (ঙ) মোতাবেক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিটি করপোরেশন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে ১ তারিখ থেকে ডিএনসিসিকে শূন্য ঘোষণা করা হলে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সিটিতে নির্বাচন করতে হবে।

ট্যাগ: Banglanewspaper ঢাকা উত্তর খালেদা জিয়া ডিএনসিসি