banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: তরুণ প্রজন্মের যারা যৌন জীবনে সক্রিয়, তাদের কমপক্ষে অর্ধেক পুরুষ প্রথম কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সময় কনডম ব্যবহার করেন না। জরিপে দেখা গেছে, কনডম সঙ্গে রাখলে চরিত্র সম্পর্কে ভুল বোঝার সম্ভাবনা আছে, এমনটাই মনে করেন এক তৃতীয়াংশ পুরুষ।

দেখা গেছে যে ইংল্যান্ডে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি দশ জনে একজন গনোরিয়া এবং ক্ল্যামিডিয়ায় আক্রান্ত। রয়াল কলেজ অব জিপির সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ সার্ভিসের ফোন জরিপে আক্রান্তরা জানিয়েছেন তারা কখনওই কনডম ব্যবহার করেননি।

ইউগভ পোল এ ২০০৭ জন তরুণের যৌন আচরণ নিয়ে সেক্সুয়াল হেলথ ক্যাম্পেইন চালানো হয়। ফলাফল প্রকাশিত হয় পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই)-তে। এসটিআই এর প্রতিরোধের এই ক্যাম্পেইনটিতে সমর্থন জানিয়েছে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন, ডিউরেক্স এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সেক্সুয়াল হেলথ অ্যান্ড এইচআইভি। তাদের লক্ষ্য ছিল তরুণদের কাছে কনডম ব্যবহারের বিষয়টিকে স্বাভাবিক করা এবং তাদেরকে কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

যৌন বাহিত রোগের প্রকোপ এত বেড়ে যাওয়ার পরেও কনডম ব্যবহারের মূল কারণ হিসেবে ৫৮% জানিয়েছেন অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়ানো। মাত্র ২৯% জানিয়েছেন যৌন বাহিত রোগ এড়াতে কনডম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা। রিপোর্টে দেখা গেছে, যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে আলাপের বিষয়টি তরুণদের কাছে এখনও অস্বস্তিকর। ৫৬% পুরুষ এবং ৪৩% জানিয়েছেন বন্ধুদের সঙ্গে এসটিআই নিয়ে কথা বলাটা বেশ বিব্রতকর। গবেষণায় আরও একটি মজার তথ্য বের হয়েছে। দেখা গেছে ৩২% তরুণ জানিয়েছেন তারা টিভিতে কিংবা সিনেমায় কখনোই কনডম ব্যবহারের কোনো দৃশ্য দেখেননি।

নতুন ক্যাম্পেইন এবং সার্ভের ফলাফল সম্পর্কে আরসিজিপি এর চেয়ারম্যান প্রফেসর হেলেন স্টোকস-ল্যামপার্ড বলেন, ‘জরিপের ফলাফল আসলেই আশঙ্কাজনক। ভালো এবং সহজবোধ্য যৌন শিক্ষা প্রয়োজন সবার। এর মধ্যে গর্ভনিরোধ এবং এসটিআই এর ভয়াবহ দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ প্রশংসার পাওয়ার যোগ্য।’ স্টোকস-ল্যামপার্ড আরও জানান, ১৯৯৮ থেকে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস-এ টিন প্রেগনেন্সি রেট কমে অর্ধেক হয়েছে। কিন্তু যৌনবাহিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে।

পিএইচই এর এসটিআই সারভেইলেন্স এর হেড গোয়েন্ডা হিউজ জানান, জরিপে দেখা গেছে যৌন জীবনে সক্রিয় ৪৭% তরুণ জানিয়েছেন, যখন নতুন কোনো নারীর সঙ্গে তারা যৌন কার্যে লিপ্ত হন তখন তারা কনডম ব্যবহার করেন না। আর এই কারণেই এসটিআই’তে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গনোরিয়া এবং ক্ল্যামিডিয়ায় আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের বয়সই ২৫ এর কম। তাই তরুণদেরকে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে যৌন কার্যে কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ডিউরেক্স ইউকে এর টম হেইউড বলেন, ‘তরুণদের জানাতে চাই কনডম ব্যবহার করলে সেক্স একটি উপভোগ্য এবং নিরাপদ বিষয়। অনেকেরই মনে করেন কনডম ব্যবহারে যৌনতার আনন্দ কমে যায়, যা ভুল ধারণা। এসটিআই প্রতিরোধ করতে যৌনতায় কনডম অবশ্যই মুখ্য একটি বিষয়।’

ট্যাগ: Banglanewspaper কনডম যৌন