banglanewspaper

স্বরূপকাঠী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: একমাত্র ছেলের নামাজে জানাজায় উপস্থিত থাকেননি স্বরূপকাঠী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য। এমনকি তিনি মৃত সন্তানের মুখও দেখেননি। বিষয়টিকে কেন্দ্র উপজেলার সর্বত্রই টক অব দা টাউনএ পরিনত হয়েছেন ওই বাবা। ঘটনাটি গত শুক্রবার উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সেহাংগল এলাকায় ঘটে।

সরেজমিনে জানা যায়, ৭১৯১ নম্বর ধারী মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন তালুকদারের ২ জন স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রী আপন চাচাতো বোন পিয়ারা বেগমের গর্ভে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে থাকলেও দ্বিতীয় স্ত্রী আপন মামাতো বোন রোকসানা নিঃসন্তান। আনোয়ারের  মেঝ ভাই দেলোয়ার হোসেন তালুকদার ও বোন জেসমিন বলেন আমার ভাতিজা মেঝবা তালুকদার (৪৫) খুব ভালো লোক ছিলেন।

তার মৃত্যুতে আমরা সকলেই শোকাহত। তবে বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ২য় বিয়ে করার পর থেকেই তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের দেখভাল করতেন না। ভাতিজা মেজবাহ যখন যে কাজ পেতেন তা করতেন। মেজবাহ’র ১ মেয়ে ও ২ ছেলে ও ১ স্ত্রী আছে। মেয়ে মৌরীর বিয়ে হলেও ছেলেরা ছোট ছোট। বোন জেসমিন বলেন, বড় ভাই ভাতিজা মেজবাহ’র জানাজার নামাজে না এসে চরম খারাপ কাজ করেছেন যা আমাদেরকে সমাজে ছোট করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বড় ভাবী অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। তার সকল চিকিৎসা খরচ আমার মৃত ভাইপো ও আমার আরেক ভাইপো উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি লিংকন তালুকদারই করে থাকেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ হুমায়ুন ব্যাপারী বলেন, মেজবাহ অত্যন্ত ভালো একটি মানুষ ছিলেন। কিন্ত ওর বাবা বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকায় প্রায়ই বাবার কাজের প্রতিবাদ করতেন ফলে আনোয়ার হোসেন তালুকদার ছেলে হিসেবে ওর পরিচয় দিতো না।

এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, এরশাদ সরকারের শেষের দিকে বিডিআরে চাকুরীরত অবস্থায় আনোয়ার হোসেন তালুকদার ও তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গরা কুহুদাসকাঠী গ্রামের পুতুল বৈদ্য নামে এক মেয়েকে ধর্ষন করে মেরে ফেলে। আনোয়ার বিডিআরে চাকুরী করে ফলে এ বিষয়ে ভয়ে কেহ কোন কথা বলেনি এমনকি থানায় একটি ইউডি মামলাও হয়নি। ২০০৫ সনে বিডিআর থেকে অবসর নেয়ার আগেও পরে আনোয়ার গর্বের সাথে একথা বলে বেড়াতেন বলে তারা জানান।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হয় তার বাড়ি থেকে মাত্র ৫ মিনিটের রাস্তা ২য় স্ত্রীর ঘরে। এসময় উত্তেজিত হয়ে আনোয়ার বলেন, আমি শুক্রবার সকালে সেহাংগল বাজারে যেয়ে মেজবার মৃত্যুর সংবাদ পাই। জানাজায় কেন গেলেন না জানতে চাইলে তিনি ও তার ২য় স্ত্রী নিজেদের অসুস্থ দাবী করেন। সেহাংগল বাজারে হেটে গিয়ে ওই দিন সোহাগের সেলুনে সেভ হওয়া ও চায়ের দোকানে বসে চা খেতে পারলে আপনি কেন জানাযায় অংশ গ্রহন করতে পারলেন না এমন প্রশ্নে তিনি নিরুত্তর থাকেন। 

বিষয়টি নিয়ে সেহাংগল গ্রামের একাধিক লোক বলেন, যে বাবা তার সন্তানের মৃত্যুর পর সন্তানের মুখ দেখেনা ও নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেনা এমন বাবা কোন ভাবেই মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেনা। তারা বলেন উনি কোনদিনই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বলে আমরা ওনার মুখেও শুনিনি তবে আনোয়ার অনেক নারী ধর্ষণ, হত্যা ও অপকর্মের কথা নিজ মুখেই আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। তারা দাবী করেন, আনোয়ারকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে কলকঙ্কমুক্ত করা হোক।  
 

ট্যাগ: banglanewspaper স্বরূপকাঠী জানাজা মুক্তিযোদ্ধা