banglanewspaper

বাবা-মা ১৫ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীর বিয়ে ঠিক করেছেন। সে বিয়ে করতে চাইছে না। কিন্তু বাবা-মায়ের নাছোড় বান্দা। তাই ওই ছাত্রী দাবি তাদের দাবী না মেনে সোজা চয়ে যায় থানায়। গভীর রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে টানা চার কিলোমিটার হেঁটে দশম শ্রেণিতে পড়া ওই কিশোরীকে থানায় হাজির হয়। এরপর পুলিশকে নালিশ।

ভারতের রানিগঞ্জের জেমেরি পঞ্চায়েতের চলবলপুর এলাকার বাঁধকুঠি গ্রামে ওই কিশোরীর বাড়ি। পরে সোমবার প্রশাসনের লোক গিয়ে ওই কিশোরীর বাবা-মাকে সতর্ক করে।

রানিগঞ্জের জে কে নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পুষ্পা কুমারী। বিয়ে ঠেকাতে থানায় গিয়ে সে পুলিশকে বলে, ‘পুলিশ কাকু, আমার বিয়ের বয়স হয়নি। বাবা তাও জোর করে বিয়ে দিতে চাইছে। আমি বিয়ে না করে পড়তে চাই।’

তবে ওই কিশোরীর বাবা বলদেব স্বর্ণকার বলেন, বিয়ের কোনো তোড়জোড় করা হয়নি। মেয়ে দুষ্টুমি করছিল। তাই মেয়েকে ভয় দেখানোর জন্যই তিনি বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

পুলিশ জানায়, থানায় আসার আগে পুষ্পা কুমারী তার বাবাকে জানায়, সে পড়তে চায়। বিয়ের নির্দিষ্ট বয়স না হলে কিছুতেই বিয়ে করবে না। কিন্তু মেয়ের বাবা তারপরও বিয়ে দিতে চায়। তাই গভীর রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা পুলিশের কাছে চয়ে আসে সে।

গত শনিবার রাতে পুলিশ ওই কিশোরীর থেকে অভিযোগ পায়। ওই রাতেই তারা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা কিশোরীর বাড়ি যান। খবর পেয়ে ব্লক প্রশাসন রোববার যোগাযোগ করে কিশোরীর সঙ্গে। পরে গতকাল আসানসোল থেকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি সদস্য নরেন্দ্রচন্দ্র গড়াই কিশোরীর বাবার সঙ্গে কথা বলতে তাঁর বাড়িতে যান।

রানিগঞ্জের বিডিও প্রশান্তকুমার মাহাতো বলেন, ‘ওই কিশোরীর বাবাকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মেয়ের বিয়ের বয়স না হলে বিয়ে দেওয়া যাবে না।’

ট্যাগ: Banglanewspaper বিয়ে ঠেকাতে গভীর রাতে থানায় স্কুল ছাত্রী