banglanewspaper

মোঃ নাসির উদ্দীন, নকলা (শেরপুর): নিয়োগ ও পদোন্নতি না পাওয়ায় শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ৪১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার তারাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় অর্ধযুগ ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসা নুর উদ্দিন শাহীন, উরফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খুররুম করিম, পিছলাকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনসহ অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্তরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে ক্লাশ কার্যক্রম কোন ক্রমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সব ক্লাস সঠিক ভাবে নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই শূন্য পদে অতিদ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া দরকার বলে মনে করছেন তারা।

অনেকেই জানান, সহকারী শিক্ষক থেকে ভারপ্রাপ্ত হওয়ায় তার কমান্ড মানতে সবাই রাজি নন। কিছু ক্ষেত্রে নির্দেশ দেওয়াও মান সম্মানের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় বলে জানালেন নুর উদ্দিন শাহীন।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম জানান, শূন্য পদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে অফিসিয়াল ভাবে জানানো হয়েছে। আপাতত দাপ্তারিক কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য একজন করে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদ পূরণে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষিত সমাজ।  

উল্লেখ্য, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় ৬৬টি, শ্রীবরদীতে ৪৮টি, নালিতাবাড়ীতে ৪৭ টি, নকলায় ৪১টি এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩৪ টিসহ জেলার ২৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper নকলা প্রধান শিক্ষক