banglanewspaper

ওমর ফারুক, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানে শহরের সন্নিকটে সাঙ্গু নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে অবাধে বালু উত্তোলন করে পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বালু উত্তোলন ও পাচার কারবার দিব্যি চললেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার, নীরব। নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন ও পাচারের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বসতঘর নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন অনেক পরিবার।

নদী থেকে বালু উত্তোলন ও পাচার কাজে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দু’জন নেতা সরাসরি জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন নদী তীরের বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২ডিসেম্বর) সরজমিনের গেলে দেখা যায়, বান্দরবান জেলা শহরের কালাঘাটার ৩নং ওয়ার্ডের কাশেমপাড়া এলাকায় (কালাঘাটা ছাইংগ্যা সীমানা) সাঙ্গু নদীর চর ও তীর থেকে প্রতিদিনের ন্যায় প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন এবং ট্রাকে ট্রাকে পাচার করা হচ্ছে। জেলা প্রাশাসনের কোন অনুমোদিত বালু মহাল ছাড়াই নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু পাচার অব্যাহত থাকায় এলাকার সচেতন নাগরিকরাও হতবাক।

ঘটনাস্থল খোদ পৌর এলাকার ভেতরে হওয়া সত্ত্বেও অবাধে বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসনের কোন নজরধারী না থাকায় বিষয়টি রহস্যজনক এবং লজ্জাস্কর বলেও মনে করছেন তাঁরা। সাঙ্গু নদীর বালু খেকোরা ক্ষমতাসীন দলের প্র্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন কথাও বলা যাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয়রা।

বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত জমির যৌথভাবে মালিক মমতাজ বেগমের বড় ছেলে মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, “বালু উত্তোলনে আমার মায়ের নামীয় জায়গা ব্যবহার না করতে অনেক বার বলা হয়েছে। কিন্তু বালু উত্তোলনে জড়িত চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের কথা কর্ণপাত করছে না। এভাবে প্রতিদিন ৩০/৪০ ট্রাক বালু উত্তোলন করা হলে ভবিষ্যতে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে”।

মঙ্গলবার সকালে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত চট্ট মেট্টো ট: ১১-২৫১ গাড়ীর চালক মো. ফারুক জানান, “বালু গুলো ইটভাটার কাজের জন্য নেয়া হচ্ছে”। বালুর দাম প্রতি মিনিট্রাকে ২৫০টাকা এবং বড়ট্রাকে ৪০০টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অবৈধ বালু মহাল তদারকিতে থাকা ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল-আরমান জানান, “বালুর টাকা ও গাড়ীর হিসাব প্রতিদিন উজ্জল বাবুকে দিয়ে আসতে হয়। আমরা বালু উত্তোলনের কোন টাকা নিই না, বালু পরিবহনে রাস্তা ব্যবহারের টাকা নিই”। 

বালু মহালের নিয়ন্ত্রক আরমান থেকে গাড়িপ্রতি বালুর টাকা নেয়া প্রসঙ্গে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী উজ্জল দাশ বলেন, “সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। সে (আরমান) আমার কর্মচারীও নয়। সে তার দোষ আড়াল করতে আমার নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে”।

এদিকে বিগত বছরে সাঙ্গু নদীর ছাইংগ্যাসহ নানাস্থান থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে স্কেভেটর ব্যবহার করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত একটি স্কেভেটর জব্দ ও এক বালু পাচারকারীকে জরিমানা করে থাকলেও  চলতি মৌসুমে তেমন কোন উদ্দ্যোগ নেন নি জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক (যুগ্মসচিব) জানান, সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে বালু মহালের অনুমতি দেয়া হয়নি। অবৈধ ভাবে কেউ উত্তোলন করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অডিও:> এখানে ক্লিক করুন

 

 

ট্যাগ: Banglanewspaper বালু বান্দরবান অবৈধ